প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছয় মাসে খেলাপি ঋণ ১৮ হাজার কোটি টাকা, ১১.৮৭ শতাংশ থেকে কমেছে ১১.৬৭

স্বপ্না চক্রবর্তী : চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ঋণ খেলাপি কিছুটা কমে মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বছরের প্রতম তিন মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। আর পরের তিন মাসে অর্থাৎ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে বেড়েছে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা।

শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বাড়লেও শতাংশের হারে কমেছে। ১১.৮৭ শতাংশ থেকে কমে খেলাপি ঋণ কমেছে ১১.৬৭ শতাংশ। এটি বিতরণকৃত ঋণের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। গত ডিসেম্বর খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। এটি গত মার্চে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের তিন মাসে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বাড়লেও তা প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় অনেক কম। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিতরণকৃত ঋণের খেলাপির পরিমাণ ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ৩০ জুন শেষে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। গত মার্চে এর পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী জুন শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এটি মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে বিশেষায়িত খাতের দুই ব্যাংকের জুন পর্যন্ত খেলাপি হয়েছে ৪ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত ছিল ৪ হাজার ৭৮৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়াও বেসরকারি খাতের ৪২টি ব্যাংকের জুন পর্যন্ত খেলাপি হয়েছে ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। গত মার্চে এর পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭ দশমিক শতাংশ। এছাড়াও বিদেশি খাতের ৯টি ব্যাংকের জুন-১৯ পর্যন্ত খেলাপি হয়েছে ২ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৫৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৬ দশমিক শতাংশ।
এদিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কোনোভাবেই না কমায় শংকিত দেশের অর্থনীতিবিদরা। এ ব্যাপারে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তবে পরের তিন মাসে অর্থাৎ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে খেলাপি ঋণ বাড়লেও বৃদ্ধির হার কম। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এটি হতাশার কথা।

তবে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে সরকারসহ ব্যাংকগুলো চেষ্টা করছে বলে জানান অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও বেসরকারি ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আশার কথা হলো, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যেভাবে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল, পরের তিন মাসে বৃদ্ধির হারটা অনেক কম হয়েছে। আশা করছি, আগামীতে আরও কমে আসবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত