প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তামাক খাতে নিষিদ্ধ হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ, লাইসেন্স দেয়া হবে না নতুন কারখানার

আহমেদ শাহেদ : দেশে তামাক খাতে সব ধরনের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নিষিদ্ধ হচ্ছে। যে কোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনে নতুন কোনো কারখানার লাইসেন্স ও অনুমোদন সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। এমনকি, প্যাকেট বা মোড়ক ছাড়া দোকান থেকে খুচরা পর্যায়ে সিঙ্গেল শলাকার সিগারেট বা অন্য কোনো তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না।

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি, ২০১৯-এর খসড়ায় এসব ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি খসড়াটির বিষয়ে মতামত চেয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। সরকার এ নীতিমালাটি এমন এক সময়ে করছে, যার কয়েক মাস আগে জাপানের বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সিগারেট নির্মাতা জাপান টোব্যাকো বাংলাদেশের তামাক খাতে ১৫০ কোটি ডলার (১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ (এফডিআই) করেছে।

গত বছর আগস্টে এ-সংক্রান্ত চুক্তির পর বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি এক বার্তায় বলেছিল, বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম সিগারেটের বাজার এবং এ বাজার প্রতি বছর ২ শতাংশ করে বাড়ছে। খসড়া নীতিমালায় ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকের ব্যবহার নির্মূল করা ও ২০৩৫ সালের মধ্যে তামাকের চাষ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। টার্গেটকৃত সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক  ব্যবহারের হার শতকরা ৫ শতাংশের নিচে নেমে এলে তামাক নির্মূল হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪২.৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ, যা মোট জনগোষ্ঠীর (১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব) ৩৫.৩ শতাংশ।

খসড়া নীতিমালায় দেয়া লক্ষ্য পূরণ করতে গেলে আগামী ২১ বছরে তামাক ব্যবহারের এ হার অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, তামাক নিয়ন্ত্রণে চাহিদা কমানোর পাশাপাশি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে তামাক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অধিক মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য বিভিন্ন বিষয় জাতীয় তামাক নীতির খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তামাক খাতে যে কোনো ধরনের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিরুৎসাহিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, তামাক উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত যে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের সব ধরনের অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ, প্রতিনিধিত্ব প্রত্যাহার করা হবে। সরকার কর্তৃক প্রণীত কোনো নীতিমালায় তামাক কোম্পানিকে কোনো ধরনের প্রণোদনা, বিশেষ সুবিধা বা পৃষ্ঠপোষকতা করা যাবে না। অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি, বিপণন ও বিতরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। ইলেকট্রনিক্স সিগারেটসহ এ ধরনের সব তামাকসংশ্লিষ্ট পণ্য ও যান্ত্রিক ডিভাইসের বিক্রি, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণও নিষিদ্ধ করা হবে।

ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে নীতিমালায়। তামাকবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ‘প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জোবায়ের বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন হয়েছে, বিধিমালাও হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার কমেনি। তামাক খাত থেকে সরকার প্রতি বছর যে পরিমাণ রাজস্ব আহরণ করে, তার তুলনায় তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় অনেক বেশি ব্যয় করতে হয়। আমরা জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ন্যাশনাল টোব্যাকো কন্ট্রোল সেলকে সুপারিশ দিয়েছিলাম, যাতে দ্রুত এটি করা হয়। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত নীতিমালা পায়নি।’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী খায়রুল আলম সেখ বলেন, ‘জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার খসড়ার ওপর মতামতের পর্ব শেষ হলে এ বিষয়ে কয়েকটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে। নীতিমালা চূড়ান্ত করতে আরও সময় লাগবে।’ সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত