প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মশা মারতে চিরুনি অভিযান, ২২ বাড়িতে মিলল এডিসের বংশধর

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করছে। নয়া দিগন্ত

বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২৬১ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৮টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে। একই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) অভিযান চালিয়েছে ১১৮ বাড়িতে। তারা এডিসের লার্ভা পেয়েছে ৪টি বাড়িতে।

তবে উভয় সিটি করপোরেশনই লার্ভা পাওয়া প্রত্যেক বাড়ির মালিককে আর্থিক জরিমানা করে। অর্থাৎ দুই সিটিতে একদিনেই মোট ৩৭৯ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২২টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচালিত চারটি মোবাইল কোর্ট আজ বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকার ১১৮ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার অভিযোগে চারটি বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা জরিমানাও আদায় করেছে মোবাইল কোর্ট।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকার মোট ১১৮টি বাড়িতে ইন্সপেকশন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা এবং ২টিতে নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়ায় বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে মাট ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মোবাইল কোর্ট।

উল্লেখ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এডিস মশার লার্ভা নিধনে চলমান মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার পরিচালিত অভিযানে ১৯৩ ফকিরাপুলের নির্মাণাধীন একটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ১০ হাজার টাকা, ৪৩/১ হাজারীবাগ শেরে বাংলা রোডের বাড়ির ছাদে পরিত্যক্ত টায়ারে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ২৫ হাজার টাকা এবং কেএমদাস লেনের ২টি বাড়িতে লার্ভা জন্মানোর উপযোগী পরিবেশ পাওয়ায় ৫ হাজার ও অভয় দাস লেনের ২টি বাড়িতে নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় ৪ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে মোবাইল কোর্ট ।

ডিএসসিসি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অঞ্চল ১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বড় মগবাজার ওয়ারলেছ এলাকার ৩২টি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ম্যাজিস্ট্রেট বাবর আলির নেতৃত্বে হাজারীবাগ শেরে বংলা এলাকার ৩০টি বাড়িতে, ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ফকিরাপুল এলাকার অভিযানে ২০টি বাড়ি এবং ম্যাজিস্ট্রেট সোনিয়া হাটখোলা, রামকৃষ্ণ মিশন, কে এম দাস লেন এলাকার ৩৬টি বাড়ি পরিদর্শন করেন।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচায়লনায় ৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন এলাকার ৬১ বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তারা ১৮টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পায়।

ডিএনসিসি’র সূত্র জানায়, এডিস মশা নির্মূলের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টায় গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড থেকে ১১৩ নং সড়ক পর্যন্ত “এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকরণ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান” (চিরুনি অভিযান) চালানো হয়। এ সময় ১১৩নং সড়কে একটি নির্মাণাধীন ভবনে এবং ‘হাশেম ইলেকট্রিক’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ছাদে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া ১১৫ নং সড়কে ‘হারমোনি হোল্ডিংস’ এর ছাদে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

উল্লেখ্য ‘চিরুনি অভিযানে’ ২৬১টি বাড়ি পরিদর্শন করে ১৮টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ বাড়িগুলোর সামনে “সাবধান, এ বাড়িতে/প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়াছে” লেখা স্টিকার লাগানো হয়। গত ২০ আগস্ট থেকে তিনদিনে ১৯নং ওয়ার্ডের (গুলাশান-বনানী) মোট ৬৫৮টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৫৬টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়।

এছাড়া এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় বারিধারা জে ব্লকে ‘গালফ অটো কারস লিমিটেড’ এর মালিককে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সগীর হোসেন ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

মিরপুরের টোলারবাগে পরিত্যক্ত টায়ারে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ১টি দোকানের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহা বিনতে সিরাজ।

ভাষানটেকে ৪টি দোকানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শফিউল আজম প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবদুল হামিদ মিয়া বেলা সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বারিধারা ‘জে’ ব্লকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৩টি দোকানের ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় এবং ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার অপরাধে সর্বমোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত