প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গারা ফেরত না যাওয়ার পেছনে এনজিওদের ভূমিকা রয়েছে, সংসদীয় কমিটিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়

বাশার নূরু : রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় কমর্রত দেশি-বিদেশি কিছু বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফেরত যেতে আগ্রহী হচ্ছে না বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করা এনজিওগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করার সুপারিশ করেছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার একজনও ফিরে যেতে রাজি না হলেও সংসদীয় কমিটি তাদের রাজি করানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এক্ষেত্রে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য রোহিঙ্গা নেতাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দলকে আগে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি বলেন, কিছু কিছু এনজিও রোহিঙ্গাদের বোঝাচ্ছে তারা যেন নিজ দেশে না যায়, নাগরিকত্বসহ কিছু শর্ত পূরণ না হলে যেন তারা না ফিরে যায়। এ কারণে আমরা এসব এনজিওর কাজ মনিটরিং করে তাদের চিহ্নিত করতে বলেছি।

ফারুক খান বলেন, প্রথম দিনে ২০০ থেকে ৩০০ জন ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ফেরত নিতে রাজি হওয়ার তালিকায় ৩ হাজার ৪৫০ জনের নাম রয়েছে। বাকিদের ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে দেশে ফেরার বিষয়ে আস্থা ফিরে পায় সেজন্য তাদের নেতাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল আগে পাঠানো যেতে পারে বলে সংসদীয় কমিটি মনে করে। কারণ, মিয়ানমারেও জাতিসংঘের অফিস আছে। এখানকার মতো ওপাশেও চীনের প্রতিনিধি দলের সদস্য রয়েছেন। তারাও সেখানে কাজ করুক।

ফারুক খান বলেন, মানবিক কারণে তাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এর মানে এই নয় তারা আমাদের জিম্মি হিসেবে ব্যবহার করবে। তারা যাতে দেশে ফিরতে ভরসা পায় সেজন্য তাদের নেতাদের প্রতিনিধি দলকে মিয়ানমার ঘুরিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ‘সেফ জোন’ সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সফরের জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বিদেশে অবস্থানরত চিহ্নিত বাংলাদেশি দালাল চক্র দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে ভিসা পেতে বাংলাদেশি নাগরিক, বিশেষ করে সিনিয়র নাগরিকদের হয়রানি রোধে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য এ অর্থবছরে বাজেট বৃদ্ধি পাওয়ায় কমিটির পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বরাদ্দ টাকা যাতে সফল ও যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের নিহত সদস্য এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

ফারুক খানের সভাপতিত্ব বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, আব্দুল মজিদ খান, কাজী নাবিল আহমেদ এবং নিজাম উদ্দিন জলিল (জন)।

সম্পাদনা : সারোয়ার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত