প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চার শর্ত মেনে নিলেই রোহিঙ্গা ফেরত যাবে স্বদেশে, প্রত্যাবাসন হয়নি

ফরহাদ আমিন : কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে যেতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি বলেন,আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। কেউ স্বেচ্ছায় রাজি হয়,তাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ যেতে রাজি হয়নি।

এ সময় কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আফসার,চীন প্রতিনিধিদলের দুজন সদস্য ও মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল , বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম আরো বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৩০০টি পরিবারের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন।এর মধ্যে শর্তবিহীনভাবে স্বদেশে ফেরত যাওয়ার মতো একজনকেও পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সরকার প্রথম থেকে বলে আসছিল, কোনো রোহিঙ্গা নাগরিককে জোর করে মিয়ানমারে পাঠানো হবে না।তাই আজও তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ চলছে। ক্যাম্পের সামনে পাঁচটি বাস ও পাঁচটি নোহা মাইক্রো,তিনটি ট্রাক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে যারা স্বেচ্ছায় গাড়িতে উঠবে ম‚লত তাদেরই প্রত্যাবাসন করা হবে,কাউকে জোর করা হবে না।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার সরকারের দেয়া ছাড়পত্র অনুযায়ী এক হাজার ৩৭টি পরিবারের মোট তিন হাজার ৫৪০ জনকে ফেরত নেওয়ার প্রথম তালিকাটি দেওয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে অন্যদের এই প্রক্রিয়ায় আনা হবে। কারণ এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

এদিকে বেলা দেড়টার দিকে জাদিমোরা শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ই-ব্লকের রোহিঙ্গা আরাকান সোসাইটি নামে কিছু রোহিঙ্গারা নেতারা ৪ দফা দাবি দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এসময় লেদা, নয়াপাড়া, শালবাগান রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরের ব্লকের দলনেতা (মাঝি), ইমাম ও আরাকান সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ উল্লাহ, ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহীম, সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

দাবিগুলো হলো- (১) রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে(২) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে (৩) জমি-জমা ফেরত দিতে হবে (৪) মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা ১ লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গাদের মুক্ত করে স্ব স্ব গ্রামে বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি ১৩৬ প্রজাতির মত রোহিঙ্গাদেরও চলাফেরার স্বাধীনতা দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম সময়সীমা ঠিক হয়েছিল। সম্পাদনা : মুরাদ হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত