প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ আমাদের নির্লিপ্ততা

আবু জাহেদ : কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ছুটিতে বাড়ি যেতে এবং ফিরতে সড়ক দুর্ঘটনায় (ট্রেন লঞ্চ এবং বাস) নিহত হয়েছে ২৯৯ জন মানুষ। ১৯ আগস্ট বিকাল পর্যন্ত হিসাব করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। আমরা জানি শুক্রবার পর্যন্ত ঈদ উপলক্ষে মানুষের এই ফিরতি ঢল থাকবে। অর্থাৎ সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে। এখন কষ্ট করে যদি আফ্রিকার গৃহযুদ্ধপ্রবণ কোনো একটি দেশের খবর নেয়া হয় তাহলে আমি খুব নিশ্চিত দশ-এগারো দিনে সেখানেও এতো লোক যুদ্ধেও মারা যায়নি। কিংবা এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীতে এমন কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেনি যেখানে এতো মানুষ অকারণে মরে গেছে। অর্থাৎ সারা পৃথিবীতে যুদ্ধ এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে যতো মানুষ প্রাণ হারায়, তার থেকে ঢের মানুষ প্রাণ হারায় আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে। অথচ কোনো কিছু করে, কোনোভাবেই অনাকাক্সিক্ষত এই মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করা যাচ্ছে না।

এর বহুবিধ কারণ রয়েছে। কিন্তু সেসব বহুবিধ কারণের মধ্যে অন্যতম কারণটি হলো আমাদের নির্লিপ্ততা। আর এই নির্লিপ্ততা তৈরি হয়েছে আমাদের ধর্মীয় চিন্তার কারণে। মৃত্যু আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত একটি বিষয়, এই বিষয়ে পৃথিবীর কোনো মানুষের হাত নেই। অতএব, চালক বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালাক, কিংবা খুব সাবধানে গাড়ি চালাক, গাড়ি এক্সিডেন্ট হোক কিংবা গাড়ি এক্সিডেন্ট না হোক, তাতে করে আমার মৃত্যু হওয়া না হওয়া নির্ভর করে না। কপালে মৃত্যু লেখা থাকলে সিন্দুকের মধ্যে যেয়েও আমি বাঁচতে পারবো না, এই হলো আমাদের বিশ্বাস। এই বিশ্বাস যারা গাড়ি লঞ্চ ট্রেনের চালক তাদেরও, আবার যারা এই সব যানবাহনে যাত্রী হিসেবে ওঠেন… তাদেরও। উভয় পক্ষের জীবন সম্পর্কে এই উদাসীনতা, সড়কে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু বন্ধ করার একটি প্রধানতম অন্তরায়।

দেখা যাচ্ছে কানে মোবাইল ফোন ঠেকিয়ে গাড়ির চালক বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালাচ্ছে, মনে হচ্ছে যেকোনে সময় একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যেতে পারে। অনেকবার এ রকম পরিস্থিতিতে পড়ে তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করেছি, দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের মধ্যে থেকেই একজন বলে উঠলেন, এতো ভয় পাইয়া লাভ নেই ভাই, মৃত্যু কপালে লেখা থাকলে ঠেকাবে কে। কোনো সিএনজি কিংবা টেক্সি ক্যাব ভাড়া করছেন, চালককে বললেন, ভাই একটু সাবধানে চালাও, চালক সোজা উত্তর দিয়ে দিলো… হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। এ রকম পরিস্থিতিতে জীবনে আমি বহুবার পড়েছি এবং প্রতিনিয়ত পড়তে হয়। আমি জানি এই সম্পর্কে আপনাদের অভিজ্ঞতা আমার মতোই। এই যে মানসিকতা, হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এই মানসিকতা দ্বারা প্রভাবিত। এই ধরনের মানসিকতা জীবন সম্পর্কে, কর্ম সম্পর্কে স্বাভাবিক উদাসীনতা এবং নির্লিপ্ততা তৈরি করে। যা কেবল সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করার অন্তরায়ই নয়, আমাদের সামাজিক অগ্রগতি এবং প্রগতির সব ক্ষেত্রে তা অন্তরায় হয়ে বিরাজ করে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রচ- অভাব কৃষ্ট নয় সন্তানের একজনকে প্রশ্ন করেছিলাম, বলেছিলাম এতো সন্তান নিয়েছেন কেন? উত্তরে সে পান খাওয়া দাঁত বের করে লাজুক হাসি হেসে বলেছিলো, আল্লাহ দিলে আমি কি করবো ভাই। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত