প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : স্নাইপারের বুলেটের নিশানায় একজন শেখ হাসিনা

লুৎফর রহমান রিটন : পনেরো বছর আগে, ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস গ্রেনেড হামলা করেছিলো কারা সেটা আজ কারও জানতে বাকি নেই। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সেই জনসভায় পরিকল্পিত হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিলো আর্জেস গ্রেনেড। চট্টগ্রাম বন্দরে ‘দশ ট্রাক অস্ত্র আটক ও উদ্ধারের তালিকায়’ এই আর্জেস গ্রেনেডও ছিলো। বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় তখন চারদলীয় জামায়াত-বিএনপি জোট সরকার। সেদিন অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আইভি রহমানসহ সেদিন কতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলো আমাদের তা মনে নেই। আহত হয়েছিলো কতোশত মানুষ সেটাও মনে নেই আমাদের। আমরা ভুলে গেছি। ‘গোল্ডফিস মেমোরি’ আমাদের। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় ভুলে যাই আমরা, সব কিছু। কী নিপুণ ছক সেদিন এঁকেছিলো ঘাতকরা। গ্রেনেড থেকে বেঁচে গেলে শেখ হাসিনাকে গুলি করে হত্যা করার জন্য তৈরি ছিলো ¯œাইপার। ¯œাইপারের গুলি থেকে শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে মাহবুব নামের এক তরুণ, হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী, নিজের বক্ষে ধারণ করেছিলেন সেই গুলি। নিজের শরীরকে বর্ম বানিয়ে হাসিনাকে বুক দিয়ে আড়াল করে তাকে বুলেট প্রুফ গাড়িতে তুলে দিতে দিতে গাড়ির দরোজাতেই লুটিয়ে পড়েছিলেন মাহবুব। গ্রেনেড-বোমার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পরিবেশে নির্ভুল নিশানায় হাসিনাকে গুলি করতে নিকটেই অবস্থান করছিলো সেই ¯œাইপার। কিন্তু একজন মাহবুবের জন্য দক্ষ ¯œাইপারটি সেদিন ব্যর্থ হয়েছিলো। শেখ হাসিনার জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনটা উৎসর্গ করেছিলো মাহবুব। শেখ হাসিনার জীবন বাঁচানো সেই মাহবুবকে আমরা কী মনে রেখেছি? রাখিনি।

সরকার পরিবর্তনের পর হত্যাকা- ও হাসিনাহত্যা প্রচেষ্টায় জড়িত তখনকার লুকিং ফর শত্রুজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবর বদমাশটা এখনো জাবর কাটছে। ঘটনায় জড়িত গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ডিজিএফআই প্রধানসহ পুলিশের বড় কর্তারাও বহুদিন ধরে জেলখানার অতিথি হয়ে আইনের লম্বা হাতের অতিরিক্ত লম্বা ছায়ার আদরে এখনো শাস্তি থেকে বহুদূর কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। প্রত্যেকটা বদমাশ একেকটা ধর্ম যাজকের গেট আপ নিয়েছে। দেখে মনে হবে জেল থেকে ছাড়া পেলেই ছুট লাগাবে বায়তুল মোকাররমের দিকে। ক্রমশ লম্বা হচ্ছে ওদের দাড়িগুচ্ছ। কপালে দৃশ্যমান হচ্ছে নামাজীদের নূরানী ব্ল্যাকস্পট। এখনো পলাতক কয়েকজন আসামি। আদালত ১৯ জনের মৃত্যুদ-ের রায় দিয়েছে এক বছর আগে। কিন্তু সেটা কার্যকর হয়নি আজও। ১৯ জনের ১৭ জনই কারাগারের মাংস-রুটি খাচ্ছে। রায় কার্যকর হতে আর কতো দেরি পাঞ্জেরি? সেদিনের হামলায় চারশ আহতের মধ্যে শরীরে গ্রনেডের স্পিøøন্টারের অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে এখনো কতোজন কাতরাচ্ছেন আমরা তার খোঁজও রাখি না। আইভি রহমান ছাড়া স্পটডেড চব্বিশজনের একজনের নামও কি আমরা জানি? ‘পাপেট জজ মিয়া’র কী হলো আমাদের জানা নেই। বছর ঘুরে ২১ আগস্ট এলে মিডিয়ার কল্যাণে তারেক-বাবর-হারিসদের কথা নতুন করে ফের অবগত হই আমরা। আহত কারও কারও সাক্ষাৎকার দেখে এবং শুনে খানিকক্ষণ আহা উহু করি। তারপর ফের ভুলে যাই। এই ‘গোল্ডফিস মেমোরি’ অপবাদ থেকে আমিও মুক্ত নই। আজ একুশে আগস্ট বলেই ইন্টারনেটে হতভাগ্য কিছু রক্তাক্ত আহত ও নিহত মানুষের ছবি দেখে আমারও কিছু কথা মনে পড়লো ফের। ২০০৪ সালে কানাডায় বসে ভয়ংকর সেই হামলার দৃশ্য টিভি পর্দায় দেখে এবং বিবিসিতে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার ও কান্না শোনার পর একটা ছড়া লিখেছিলাম পরেরদিন, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ঘোর কাটতে না কাটতেই। ছড়াটা পাঠিয়ে দিয়েছিলাম জনকণ্ঠে, তখন তখনই। কিন্তু জনকণ্ঠ অজ্ঞাত কারণে এটা ছাপতে দেরি করেছিলো।

সাধারণত আমার ছড়া জনকণ্ঠে ছাপা হতো চতুরঙ্গ পাতায়, অতিদ্রুত, রাজনৈতিক কলামের পাশে। আমার প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক-সম্পাদক তোয়াব খান আমার বহু রাজনৈতিক ছড়া বছরের পর বছর ছেপেছেন সেই পাতাতেই। কিন্তু বিস্ময়কর ঘটনা… এই ছড়াটি জনকণ্ঠ ছেপেছিলো তাদের হাস্যরসের পাতা ‘রঙ্গভরা বঙ্গদেশে’। জনকণ্ঠের সেই রঙ্গ আমি মেনে নিতে পারিনি। আমি জানি একটি দৈনিক পত্রিকা হচ্ছে নানা কুতুবের ঘুঁটাকেন্দ্র। কোন্ কুতুব কোন্ ঘুঁটা মেরে সেদিন প্রচ-ভাবে সমসাময়িক রাজনৈতিক সেই ছড়াটিকে হাস্যরসের হাস্যকর পাতায় ছেপেছিলেন তা জানার আর রুচি হয়নি আমার। তোয়াব খান একাই তো ছিলেন না জনকণ্ঠে। কতিপয় ছদ্মপ্রগতিশীল জামায়াত-বিএনপিবান্ধব ছাগলও ছিলো তার আশপাশে। এই ছাগলদের কারণেই পরবর্তীতে জনকণ্ঠে লিখতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম, ধিরে ধিরে। সে আরেক কাহিনি।বিস্মরণপ্রিয় জাতি হিসেবে আমরা তুলনারহিত। আমরা সব কিছু ভুলে যাই দ্রুত। আর সেকারণেই জাস্টিজ ডিলেইড জাস্টিজ ডিনায়েড ফর্মুলায় মহামহিম খুনিদের কেশাগ্র স্পর্শে বিলম্ব ঘটে। প্রলম্বিত বা বিলম্বিত বিচার মানেই ঘাতকের শেকড় গজিয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা। সেই শেকড়ে মানবতার র‌্যাপিং করার দায়িত্বপ্রাপ্ত আমেরিকান ‘র‌্যাপ’রা ক্ষ্যাপ মারতে আসে। তাছাড়া আমাদের সুশীল ‘মানবতার বেপারীরা’ তো একপায়ে দ-ায়মানই থাকে। একুশ আগস্ট হত্যাকা-ের মূল আসামি তারেককে শেল্টার দিয়ে রেখেছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নতুন লর্ড ক্লাইভরা। বদমাশটাকে ফিরিয়ে এনে কাঠগড়ায় হাজির করতেই হবে। নইলে আরও হামলার আশঙ্কাটা থেকেই যাবে। একজন শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পারলেই ইতিহাসের চাকাটা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাবে। তাহলে বাংলাদেশকে ফের ‘পেয়ারা পাকিস্তান’ বানানো যাবে। এই একজন শেখ হাসিনার উপর তাই এ পর্যন্ত হামলা হয়েছে একুশবার। হয়তো আরও হবে। একটা বুলেট তাকে ফলো করছে অহর্নিশ। সংক্ষিপ্ত। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত