প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যারা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করছে, তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার রাখে?

সুলতান মির্জা : ঈশ্বরদীতে ট্রেনে গুলি চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় হলো কিছুদিন আগে। রায়ের পর বিএনপির দুটো প্রতিক্রিয়া ছিলো একটা প্রতিক্রিয়া ছিলো মির্জা ফখরুলের আর দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া ছিলো রুহুল কবির রিজভীর। দুইটা প্রতিক্রয়াতেই কয়েকটা কমন শব্দ ছিলো খুব পরিচিত সরকার বিরোধীদল মতকে দমন করতে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলার আসামি বানিয়ে সাজা দিচ্ছে। অথচ ১৯৯৪ সালের যে সময়ে ঈশ্বরদিতে ওই সময়ের বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ট্রেনে গুলি করা হলো তখন মির্জা ফখরুল হয়তো ঠাঁকুরগাওয়ের আঞ্চলিক রাজনীতি করে এবং রুহুল কবির রিজভী ছাত্রদলের একজন ক্যাডার হিসেবে রাবিতে রাজনীতি করে। প্রশ্ন হচ্ছে ১৯৯৪ থেকে ২০১৯ সময়ে অর্থাৎ পঁচিশ বছর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম ও রুহুল কবির রিজভী যখন একটি দলের প্রধান নেত্রীকে হত্যা চেষ্টার ঘটনাকে মিথ্যা ও বিরোধীদল ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করে, তখন সত্যি উক্ত দুই ওই সময়ের পাড়াগাঁয়ের নেতার কাছে খুব জানতে ইচ্ছা করে আসলেই সেদিন কি হয়েছিলো? কেন হয়েছিলো? তাছাড়া ২১ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা কারা করেছে? কেন করেছে? যারা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করছে তারা এই বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার রাখে কিনা? হয়তো বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক দল বিএনপির এ সময়ের অনলাইন কাঁপানো অনেক অ্যাক্টিভিস্ট বলবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ, সকলের রাজনীতি করার অধিকার আছে ব্লা ব্লা ব্লা…।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। না এটা মোটেও কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিলো না। এই হামলা ছিলো ওই সময়ে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ মহলের পরিকল্পিত হত্যাকা-। ইতোমধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার নি¤œ আদালতের রায় প্রকাশ হয়েছে। ২৪ জনের এই হত্যা মামলায় ৪৯ জন আসামির ৪২ জনের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছিলো মামলার আইনজীবীরা আদালত বাবর-পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদ-ের রায় দিয়েছে, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন দিয়েছে।
২০০৪ সালের সেদিনের ঘটনা ঠিক যাকে হত্যার জন্য ২৪ জনের প্রাণ দিতে হয়েছিলো, ভাগ্যের জোরে সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন সেই ব্যক্তি অর্থাৎ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ১৮ বার ভাগ্যের জোরে বেঁচেছেন প্রাণে, ১৯ বারেও তিনি বেঁচে আছেন এটাও ভাগ্যের জোরে। উল্লেখ্য, গ্রেনেড হামলার পরও শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য তার গাড়িতে আটটি গুলি করা হয়েছিলো। ২১ আগস্ট নিয়ে যদিও ফখরুল রিজভীদের তেমন কোনো উচ্চবাচ্চ্য নেই। কারণ ২০০৪ সাল সময়টাতে ফখরুল-রিজভীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পঞ্চম ক্লাসের হলেও বলা যায় ক্ষমতার সাবালক ছিলো। ওই সময়ে তারাও এদিক-সেদিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে দু-চারটা আকাম-কুকাম করেছে। আর তাই তাদের মন জানে এইটা নিয়ে চাপাবাজি করলে ধরা খেতে হবে।
প্রশ্ন অন্য জায়গাতে, ২০০৪ সালে ফিডার দিয়ে দুধ খেতো এমন যারা আজকে অনলাইনে আওয়ামী বিরোধিতার নামে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ভুলভাল বলে রাজনীতিতে এমন হয়, কান্নাকাটির কিছু নেই ইত্যাদি টাইপের গোঁজামিল শব্দ ব্যবহার করে। তখন আফসোস লাগে আওয়ামী লীগ সরকার কেন খালেদা জিয়াকে এতোদিনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে? কেন তারেক রহমানের নাম ধুলায় মিশিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে? কেন ফখরুল, রিজভী, মোশাররফের মতো তো লোকেদের গণতন্ত্রের চর্চার নামে এই দেশের রাজনীতিতে চিরদিনের মতো বোবা করে দেয়ায় ব্যর্থ হয়েছে? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত