প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ঘাতক বিএনপি’র সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘাত মিটবে কীভাবে, কোন শর্তে?

চিররঞ্জন সরকার : আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে তিনটি ক্ষত আছে। প্রথমটি একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা না চাওয়া (যদিও বর্তমান বাস্তবতায় সেটা একটু ফিকে হয়ে গেছে)। সেই ক্ষত না ঘুচতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলো। বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম-নিশানা মুছে ফেলার, বাংলাদেশ নামক দেশটির মোড়কে পাকিস্তানকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলো। শুরুটা অন্যদের হাতে হলেও এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করলো বিএনপি। দোসর হিসেবে পেলো জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধী সব দল-গোষ্ঠী ও ব্যক্তিকে।

কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়ানোয় এই চক্র স্বস্তি পাচ্ছিলো না। তারা ‘ঝুঁকি’ অনুভব করছিলো। অবশেষে আবারও মৌলবাদী চক্র, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একাংশ, আন্তর্জাতিক কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিনিধিদের সহায়তায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য ঘটানো হলো ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। কিন্তু দৈব ক্রমে শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেন। ব্যর্থ হলো আরেকটি গভীর রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র। আপাত বিচ্ছিন্ন এ তিনটি ঘটনার মধ্যে একটি যোগসূত্র আছে। মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিবিরোধী, একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তিই প্রতিটি ঘটনায় কলকাঠি নেড়েছে এবং তারা ক্ষমতাকে পাকাপাকিভাবে কুক্ষিগত করতে চেয়েছে।এই দেশ থেকে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য, বঙ্গবন্ধু পরিবারকে হত্যা করার জন্য যে উদ্যোগ-আয়োজন সেই তৎপরতায় জামায়াত-বিএনপি সরাসরি যুক্ত… এটা আজ প্রমাণিত সত্য। কাজেই এই ‘ঘাতক বিএনপি’র সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘাত মিটবে কীভাবে, কোন শর্তে? বাংলাদেশের রাজনীতি তাই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। হত্যা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াত-বিএনপি চেয়েছিলো ‘নিষ্কন্টক ক্ষমতা’। আওয়ামী লীগ হত্যা-ষড়যন্ত্র নয়, বরং কৌশলে জামায়াত-বিএনপিকে ফাঁদে ফেলে ভোগ করতে চাইছে ‘নিষ্কন্টক ক্ষমতা’। বিএনপির ‘মৃত্যু’ কিংবা আওয়ামী লীগের ‘পুনর্জন্ম’ অথবা আওয়ামী লীগের ‘মৃত্যু’, বিএনপির ‘পুনর্জন্ম’ ছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতির এই ব্যাধির আদৌ কোনো ওষুধ আছে কী? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত