প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্রেনেড হামলা প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে অবিশ্বাস আরো বাড়িয়েছে, অভিমত বিশ্লেষকদের

খালিদ আহমেদ : রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শেখ হাসিনার জনসভায় ১৫ বছর আগে যে গ্রেনেড হামলায় হয়েছিলো তাতে তিনি বেঁচে গেলেও আইভী রহমানসহ ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিহত হন। ২০০৪ সালের ওই ঘটনা  রাজনীতিতে মৌলিক এক পরিবর্তন সূচনা করেছিলো, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। তারা মনে করেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে যে গভীর তিক্ততা, অবিশ্বাস, অনাস্থা – তার অন্যতম প্রধান কারণ ঐ গ্রেনেড হামলা। বিবিসি বাংলা

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিলেন শেখ হাসিনা।  শেখ হাসিনাকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই এই হামলা চালানো হয়েছিলো।

ঘটনার পর থেকেই এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগ তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং তাদের মিত্রদেরকেই দায়ী করেছে। তৎকালীন সরকার ঘটনার তদন্তে জজ মিয়া নাটক সাজানোয় আওয়ামী লীগের এই সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। দশ মাস আগে বিচারিক আদালত এই মামলার যে রায় দেন, সেখানেও একথা বলা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে দলটির সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিলো।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস আগে থেকেই ছিল। কিন্তু ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এটিকে নিয়ে যায় একটি ভিন্ন মাত্রায়। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, এটা রাজনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। আজকে যে রাজনৈতিক সংকট, এই সংকটের অন্যতম কারণ এই ঘটনা।

যারা রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেন, তাদের অধিকাংশই মনে করেন, ২১শে আগস্টে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা দেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং সৃষ্টি করেছে গভীর ক্ষতের। এর ফলে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সম্পর্কে তিক্ততা চরম পর্যায়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, বিএনপি সরকারের সময়ে গ্রেনেড হামলার ঐ ঘটনার পর তদন্তের ক্ষেত্রে জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়েছিলো। আর সে কারণে বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের মাঝে বিদ্বেষ আরও বেড়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের মাঝেও অনেক প্রশ্ন দেখা দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়মা হক বিদিশা মনে করেন, রাজনীতিতে অসহিষ্ণু এবং বিদ্বেষমূলক পরিবেশের জন্য একটি প্রধান কারণ গ্রেনেড হামলার সেই ঘটনা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে বিশ্বাস এবং পরমত সহিষ্ণুতা-এই পুরো বিষয়ের ওপর একটা বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একটা ইতিবাচক যে সংস্কৃতি-সেটা কিন্তু ভীষণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

তবে হামলার সেই ঘটনা বিএনপি এবং পুরো রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সায়মা হক বিদিশা মনে করেন,অসহিষ্ণু এবং বিদ্বেষের রাজনীতি থেকে আর বেরিয়ে আসা সম্ভব কিনা, সেই প্রশ্ন থেকে যায়।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি নেতাদেরও অনেকে বলেছেন, আস্থা ফেরানো আর সম্ভব কিনা এনিয়ে তাদের মধ্যেও সন্দেহ রয়েছে।

 

কেএ/এসবি

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত