প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে কাশ্মিরের মানুষ

মাজহারুল ইসলাম : প্রতিরোধ গড়ে তুলছে কাশ্মিরীরা। গাছের গুঁড়ি আর বড় পাথর ফেলে পথ আটকে দিচ্ছে। ভারতীয় বাহিনীকে হটাতে ইটপাটকেল আর লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করছে তারা। কোথাও কোথাও ভারি অস্ত্রে সজ্জিত সেনা-পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। সংঘর্ষে কেউ আহত হলে নিজেরাই চিকিৎসা দিচ্ছে। ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে এই অসম লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছে স্থানীয় সাহসী তরুণ-যুবারা। মঙ্গলবার কাশ্মীরিদের এই প্রতিরোধ লড়াইয়ের খবর জানায় একাধিক আর্ন্তজাতিক সংবাদ মাধ্যম। যুগান্তর

খবরে বলা হয়, এ মাসের প্রথম সপ্তাহে উপত্যকার বিশেষ মর্যাদা বাতিলের কয়েক দিন পরই বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট প্রতিরোধ গড়ে তোলে কাশ্মিরের জনতা। প্রধান শহর শ্রীনগরের ঘনবসতি এলাকা সোরা তেমনই একটি এলাকা। এই এলাকার প্রবেশের জন্য অন্তত এক ডজন প্রবেশপথ রয়েছে। প্রতিটি প্রবেশ পথেই ২৪ ঘণ্টা পাহারা বসিয়েছে তরুণেরা। সেই সঙ্গে ইট-পাটকেল, বড় বড় পাথর ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। ছোট ছোট পাথর হাতে নিয়ে ব্যারিকেডের পেছনে অবস্থান নিয়েছে তারা। লক্ষ্য একটাই, যেকোনো মূল্যে ভারতীয় বাহিনীকে এলাকা থেকে দূরে রাখা। এই অঞ্চলে আধাসামরিক বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সোরা এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করছে ভারতীয় বাহিনী। কিন্তু তরুণদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটছে।

সোরাবাসীর এই বিক্ষোভ-প্রতিরোধ লড়াইয়ের খবর আর্ন্তজাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। প্রতিরোধ লড়াইয়ে অংশ নেয়া এক যুবক ২৫ বছর বয়সী ইজাজ। আটক ও নির্যাতনের আশঙ্কা সত্ত্বেও অনেকের সঙ্গে তিনিও রুখে দাঁড়িয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। আমরা ক্ষুব্ধ। আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখেও যদি বিশ্ব সম্প্রদায় চুপ করে থাকে, তাহলে আমাদের কি করা উচিত। তবে অবশ্যই আমরা অস্ত্র হাতে তুলে নেবো। সোরা এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার কাশ্মিরীর বসবাস। স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর ছিটমহলের মতো এলাকাটি মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কেন্দ্রে পরিণত হয়ে উঠেছে। আরেক যুবক ২০ বছরের ওয়াইস বলেন, প্রতিদিন সেনারা আমাদের আক্রমণের চেষ্টা করছে। আমরাও পাল্টা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।

জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুসছে কাশ্মিীররা। রাস্তায় হাজার হাজার সেনা-পুলিশের টহলের মধ্যে উপত্যকার কোথাও কোথাও হঠাৎ কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হচ্ছে তরুণ-যুবকদের দল। গত দুই দিনে উপত্যকার অন্তত ৪৭টি পৃথক স্থানে এমন বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু মোড়ে মোড়ে সতর্ক পাহারায় থাকা সেনা-পুলিশের বুলেট, পেলেট আর টিয়ারগ্যাসের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এ সময় ছোট্ট শিশু ও কিশোর-কিশোরীসহ বহু মানুষ আহত হয়। রাস্তা-ঘাট বন্ধ থাকায় বেশিরভাগই চিকিৎসার সুযোগ পায়নি। শ্রীনগরের সোরা, রাইনাওয়ারি, নওহাটা, লালবাজার গোজওয়ারা ও কাঠি দরওয়াজা এবং ইসলামাবাদ জেলার দোরু এলাকায় মোতায়েন সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর বেশ কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

সোরার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্থানীয় হাসপাতাল শের-ই-কাশ্মির ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের ওপর নজরদারি করছে ভারতীয় বাহিনী। পেলেট বা ছররা গুলি লেগে কেউ ভর্তি হলেই তাকে আটক করা হচ্ছে। এজন্য এখন সংঘর্ষে আহত হলেও হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না রোগীদের। স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী ফিজিওথেরাপিস্ট ইয়ার হামিদ বলেন, মারাত্মক কোনো আঘাত বা চোখে আঘাত না লাগলে আমরা কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যাই না। এমআই/এসবি

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত