প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারপ্রাপ্ত আমিরসহ ৪ জঙ্গি গ্রেপ্তার
বিজিবি থেকে চাকরিচ্যুতদের সংগঠনে দলভুক্ত করতে তৎপর ‘আল্লাহর সরকার’

মাসুদ আলম : রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে জঙ্গি সংগঠন ’আল্লাহর দল’ ওরফে ‘আল্লাহর সরকার’ এর ভারপ্রাপ্ত আমিরসহ (তারকা) চার জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ভারপ্রাপ্ত আমির ইব্রাহিম আহমেদ হিরো (৪৬), আবদুল আজিজ (৫০), মো. শফিকুল ইসলাম সুরুজ (৩৮) ও মো. রশিদুল ইসলাম (২৮)। তাদের কাছ মোবাইল, পেনড্রাইভ এবং হার্ড ড্রাইভ জব্দ করা হয়।
রোববার গভীর রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার কারওয়ানবাজারে র্যা বের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান জানান, সংগঠনটি সদস্যদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের টার্গেট করে। এ ক্ষেত্রে তারা পিলখানার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিজিবি থেকে চাকরিচ্যুতদের সংগঠনে ভেড়াতে কাজ করছিলেন। কিন্তু তারা সফল হননি। সদস্য সংগ্রহে ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও রিক্রুটের মাধ্যমে সংগঠনের কাঠামো মজবুতের পরিকল্পনা করেন।

এমরানুল হাসান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, সংগঠনের নেতৃস্থানীয় সদস্যরা ফিল্মি স্টাইলে তাদের তারকা (আমির) জঙ্গি মতিন মেহেদী ওরফে মুমিনুল ইসলাম ওরফে মতিন মাহবুব ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে মতিনুল হককে কারাগার থেকে মুক্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রিজনভ্যানে হামলা করে মুক্ত করার কয়েকটি পরিকল্পনা ও রেকি সম্পর্কে গ্রেপ্তারকৃতরা তথ্য দেন। তারা মনে করেন, বর্তমান সময়ের জন্য জঙ্গি মতিন মেহেদি ‘আল্লাহর বিশেষ দূত’ও হয়ে উঠতে পারেন।

১৯৯৫ সালে জঙ্গি মতিন মেহেদী এর নেতৃত্বে ‘আল্লাহর দল’ গড়ে ওঠে। ২০০৪ সালের শেষের দিকে জঙ্গি সংগঠনটি জেএমবির সঙ্গে একীভূত হয়। সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলায় অংশগ্রহণের মামলায় জেএমবির নেতৃত্বে স্থানীয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের সক্রিয় সদস্যরা গ্রেপ্তার হলে জেএমবি নেতৃত্ব শূন্য এবং সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় কারাগারের ভেতর-বাইরেসহ নানা গ্রুপে জেএমবি বিভক্ত হয়ে পড়ে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। তখন মেহেদী তার মূল সংগঠনটির অধীনস্থদের (আল্লাহর দল) নিয়ে জেএমবি ত্যাগ করে পুনঃজাগরণের চেষ্টা শুরু করেন। পরবর্তীতে মতিন মেহেদী ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানেও তাকেই আমির বা তারকা হিসেবে মান্য করা হয়। তবে ইব্রাহিম আহমেদ হিরো ভারপ্রাপ্ত তারকার (আমির) দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালে কৌশলগত কারণে দলটির নাম পরিবর্তন করে ‘আল্লাহর সরকার’ নামকরণ করা হয়।

এমরানুল হাসান আরও জানান, সশস্ত্র সংঘাত ও নাশকতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে উৎখাত করে উগ্রবাদি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার অভিপ্রায়ে এই সংগঠনটি গঠন করা হয় । জঙ্গি সংগঠনটির কার্যক্রম পাবনা জেলা থেকে শুরু হয়েছিল। উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি জেলায় রিক্রুটিং কার্যক্রম রয়েছে।

ইব্রাহিম জিজ্ঞাসাবাদে জানান, সংগঠনটির ‘অধিনায়ক’ হিসেবে কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তারকার (আমির) অনুপস্থিতিতে তিনি জঙ্গি সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন। আর্থিক ব্যবস্থাপনা, দাওয়াতি ব্যবস্থাপনা, রিক্রুটিং, মামলা মোকদ্দমাসহ সার্বিক বিষয়াদির ওপর তদারকি এবং দলীয় নীতি নির্ধারণ সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। ইব্রাহিম পেশায় একজন মোটরপার্টস্ ব্যবসায়ী। তিনি মতিনের কাছ থেকে সরাসরি ‘বায়াতপ্রাপ্ত’।

গ্রেপ্তারকৃত অতিরিক্ত অধিনায়ক ও ঢাকা জেলা নায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আব্দুল আজীজ একজন প্রাইভেট টিউটর। মতিনের মাধ্যমে উগ্রবাদিতায় প্রবেশ করেন তিনি। অন্যজন রশিদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলা নায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত