প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রসিকতা নয় সত্যিই গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান ট্রাম্প, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘হাস্যকর’

রাশিদ রিয়াজ : খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড কিনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তা রসিকতা হিসেবে মনে না করার জন্যে বলেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও মেট বলেছেন বিষয়টি ‘হাস্যকর’। ট্রাম্প এমন আভাসও দিয়েছেন গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি হবে ‘ডিল অব দি সেঞ্চুরি’। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ল্যারি কাডলো অবশ্য জোর দিয়েই ফক্স নিউজকে বলেছেন, বিষয়টি আগাচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। এ নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দিতে চাই না বরং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সত্যিই বিশে^র সবচেয়ে বড় এ দ্বীপটি কিনে নিতে চাচ্ছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটারের এ দ্বীপটি কিনতে চেয়েছিলেন যার ৮০ শতাংশই বরফে আচ্ছাদিত থাকে।

একই সঙ্গে মার্কিন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ল্যারি কাডলো বলেন, গ্রিনল্যান্ড সার্বভৌম হলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ। তারচেয়েও বড় কথা কৌশলগত অবস্থান থেকে গ্রিনল্যান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজে পরিপূর্ণ। আমরা ডেনমার্কের সঙ্গে কথা বলব এবং এর মূল্যও হবে অনেক।

এদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন তার দেশের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড বিক্রি হবে না এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রির প্রস্তাব ‘হাস্যকর’। গ্রিনল্যান্ড সফরে গিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসন বলেন, দ্বীপটির মালিকানা সেখানকার অধিবাসীদের। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতে চাই যে, ঠাট্টার ছলে এটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। আাগামী মাসের গোড়ার দিকে ডেনমার্ক সফরে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেনের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কিম কিয়েলসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক সাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড দ্বীপের অর্থনীতি ডেনমার্কের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের হাতে থাকলেও বাকি বিষয়গুলো পরিচালনায় স্থানীয় সরকার স্বাধীনতা ভোগ করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার ক্ষেত্রে তেমন কোনো অসুবিধা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন এটি এক বড় ধরনের রিয়েল এস্টেট কেনার মত ব্যাপার। আর বছরে ৭০ কোটি ডলার গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্কের দিতে হয় বলে এটি নিয়ে আপত্তি ওঠার কথা নয় বলে মনে করছেন ট্রাম্প। তবে গ্রিনল্যান্ডের একজন সংসদ সদস্য আকি মাটিল্ডা হোয়েগ ড্যাম বলেন, ট্রাম্পকে তার উপদেষ্টারা বলতে ভুলে গেছেন যে গ্রিনল্যান্ড স্বায়ত্তশাসিত একটি দেশ এবং এর ৫৬ হাজার জনগণের যে স্থানীয় সরকার রয়েছে তার ডেনমার্কের কাছে বাজেটে অর্থায়নের জন্যে নির্ভরশীল হলেও কোপেনহেগেন চাইলেও গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করতে পারবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত