প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

থানায় গিয়ে ফোনে স্বজনের সঙ্গে একমিনিট কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন কাশ্মীরিরা

ইকবাল খান : ভারত শাসিত কাশ্মীরে ৫ আগস্ট থেকে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে বন্ধ ইন্টারনেট-টেলিফোনসহ সব ধরণের যোগাযোগ কিছুটা শিথিল করা হয়েছে বলে সরকার দাবি করলেও সাধারণ কাশ্মীরিদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। বিবিসি।

নয়াদিল্লিতে থাকেন বারামুলার মেয়ে সাদাফ ওয়ানি, তিনি বিবিসিকে জানালেন, রোববার তার আব্বু ছোট মেয়েকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে থানা থেকে ফোন করেছিলেন – কিন্তু সে কথাটা মেয়েকে বলার আগেই লাইন কেটে যায়। আর সাধারণ কাশ্মীরিদের বাড়ি-ব্যবসা-দোকানে এখনও ল্যান্ডলাইন পর্যন্ত চালু হয়নি।

তবে জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের মুখপাত্র রোহিত কানসাল শনিবার শ্রীনগরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, তারা ৫০ হাজারেরও বেশি ল্যান্ডলাইন অবিলম্বে চালু করে দিচ্ছেন, যাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে যোগাযোগ এখন অনেক সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু দিল্লিতে থেকে যে কাশ্মীরিরা পড়াশুনো বা চাকরিবাকরি করেন তাদের অভিজ্ঞতা বলছে এখনও আসলে পরিস্থিতি বিশেষ কিছুই পাল্টায়নি।

বারামুলার মেয়ে সাদাফ ওয়ানি দিল্লিতে থাকেন ছোট বোনকে নিয়ে, তিনি বিবিসিকে জানান, ‘মিডিয়াতে কত কিছুই পড়লাম, কিন্তু আমি জানি কাশ্মীরে ল্যান্ডলাইন এখনও চালুই হয়নি। আমার আব্বা আর আম্মা শনিবার(১৭ আগস্ট) বিকেলে প্রথম আমার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন, তাও সেটা থানায় গিয়ে পুলিশের ফোন দিয়ে। ওদের কাছে যেটা জানতে পারলাম, মানুষজনকে কথা বলার জন্য থানায় গিয়ে প্রথমে লাইন দিতে হচ্ছে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর পুলিশের ফোন বা স্যাটেলাইট ফোনে তাদের সামনে বসেই তারা আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নিতে পারছেন-তবে সবাই কথা বলার জন্য মাত্র মিনিটখানেকই সময় পাচ্ছেন।’

তাহলে প্রশাসন যে দাবি করছে পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি ল্যান্ডলাইন চালু হয়ে গেছে, সেটা কি সত্যি নয়? বিবিবির ওই প্রশ্নের জবাবে সাদাফ ওয়ানি বলেন, দেখুন, গোটা কাশ্মীর জুড়ে, শ্রীনগর-বারামুলা-সোপোরে আমার আত্মীয়স্বজনরা ছড়িয়ে আছেন। আমি ক্রমাগত তাদের নম্বর ঘুরিয়ে চলেছি, কিন্তু কাউকে এখনও পাইনি। তিনি জানান, দিল্লিতে আমি এমন কাউকেই জানি না যে কাশ্মীরে কাউকে ল্যান্ডলাইনে ধরতে পেরেছে বলে। কাজেই সরকারের এই দাবিটা খুবই বিভ্রান্তিকর।

বিবিবি প্রতিবেদক বলছেন, গত সপ্তাহে আমি নিজে শ্রীনগরের যে হোটেলে ছিলাম, সেই ল্যান্ডলাইনেও দিল্লি থেকে ক্রমাগত চেষ্টা করে সারদিন কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবু এরই মধ্যে কাশ্মীরের কোনও কোনও পুলিশ থানা থেকে আসা কলে হঠাৎ বেজে উঠছে কাশ্মীরিদের ফোন – যারা ছড়িয়ে আছেন ভারতের নানা প্রান্তে।

দিল্লিতে কাশ্মীরি যুবক মুদাসসারও শনিবার রাতে এভাবেই তার বাবা-মার সঙ্গে প্রথম কথা বলতে পেরেছেন ঠিক পনেরো দিন পর। তিনি বলছিলেন, বাকি দেশের আর সব মা-র মতোই আমার মা-ও ছেলের চিন্তায় পাগল পাগল করছিলেন। আর আমি এদিকে ভেবে কূল পাচ্ছিলাম না, ওদের কীভাবে দিন কাটছে। রাষ্ট্র কিন্তু এভাবে মানুষকে আলাদা করে দিতে পারে না – আপনি কেন আবেগের মাঝে দেওয়াল তুলে দেবেন? এভাবে আপনি তো মানুষের গলা চেপে ধরতে চাইছেন। সাদাফ ওয়ানিও বলছিলেন, তার আব্বা-আম্মাও প্রথমেই তার কাছে জানতে চেয়েছেন দিল্লিতে কিছু ওর লাগবে কি না – তাহলে সেটা তারা পাঠাতে চেষ্টা করবেন। এখন তার বা বোনের কাশ্মীরে আসার কোনও দরকার নেই, খুব সংক্ষিপ্ত আলাপে জানিয়ে দিয়েছেন সেটাও।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত