প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গণতন্ত্রের পথে সুদান

ডেস্ক রিপোর্ট  : সুদানে মিলিটারি কাউন্সিল ও গণতন্ত্রপন্থি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার প্রশ্নে শনিবার ঐতিহাসিক সাংবিধানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

তিন দশকের একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসানের পর প্রথম দেশটিতে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হলো।

এই উপলক্ষে সুদানের রাজধানী খার্তুমে চলছে আনন্দ উদযাপন। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে বিশ্বনেতারাও রয়েছেন খার্তুমে। খবর বিবিসি।

তিন দশকের একনায়কতান্ত্রিক সামরিক শাসক ওমর আল বশিরের বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে দেশটিতে গণআন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের মুখে ১১ এপ্রিল সেনাবাহিনী বশিরকে সরিয়ে দেয়।

সেই থেকে সেনা কাউন্সিলের হাতেই ছিল সুদানের নিয়ন্ত্রণ। তবে বশিরের পতনের পরও বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আন্দোলন চলতে থাকে।

একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়। তবে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন থামেনি। শেষ পর্যন্ত বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ও একটি নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির এই চুক্তিতে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে মিলিটারি কাউন্সিল ও গণতন্ত্রপন্থিদের জোট ফোর্সেস ফর ফ্রিডম এন্ড চেঞ্চ (এফএফসি)।

সাংবিধানিক ঘোষণার লক্ষ্যে খার্তুমে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারপার্সন মুসা ফাকি মাহামাত, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসগলু, উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যাম কুতেসা, জিবুতির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ইউসুফ, দক্ষিণ সুদান, চাঁদ, কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী। মিশরের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি বর্তমানে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সিসিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি উপস্থিত হননি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা কেমাল মাদুবুলি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত রয়েছেন।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট ডেপুটি মিনিস্টার শেখ সাবাহ খালিদ আল হামাদ আল সাবাহ, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আব্দেল আল-জুবেইর, বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিদ বিন আহমেদ আল খলিফা এবং মুসলিম দেশগুলোর সংস্থা ওআইসির মহাসচিব ইউসেফ আল-ওথেইমিন। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করছেন ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেকা হাভিস্তো।

চুক্তি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের মেয়াদ হবে তিন বছর তিন মাস। এরপর অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। তবে এখনই পুরোপুরি বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না সেখানে। একটি ক্রান্তিকালীন সরকার সেখানে প্রতিষ্ঠিত হবে। যেখানে ৬ জন বেসামরিক ও ৫ জন সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ২১ মাস প্রধান থাকছেন জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। এরপর সরকারপ্রধান হবেন বেসামরিক একজন ব্যক্তি।

১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এই সরকারের একজন স্বাধীন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, যিনি হবেন বেসামরিক ব্যক্তি। একটি আইনসভা থাকবে, যার দুই তৃতীয়াংশ সদস্য এফএফসি থেকৈ আসবে। এই সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করা। দেশটিতে অন্তত তিনটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপ রয়েছে। এসব বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর জন্য কিছু আসন বরাদ্দ রাখার দাবি করেছে এফএফসি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত