প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকায় ফিরতেও বাড়তি ভাড়া, ভোগান্তি

নিউজ ডেস্ক : ঈদের ছুটির পর রাজধানীতে ফিরছেন নগরবাসী। রোববার থেকেই কর্মমুখর হয়ে উঠবে নগরী। ঈদুল আজহার পর বুধবার একদিন কর্মদিবস ছিল। পরদিন বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ছিল জাতীয় শোক দিবস। সেই সঙ্গে শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির পর রোববার থেকে খুলতে শুরু করবে অফিস-আদালত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সে কারণে শনিবার অনেকেই রাজধানীতে ফিরেছেন পথের নানা দুর্ভোগ ও বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তি নিয়ে। রোববার থেকে অনেকটাই চিরচেনা রূপে ফিরবে রাজধানী ঢাকা। সমকাল

শনিবার রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে নগরমুখী মানুষের ভিড়। প্রতিটি যানবাহনই ছিল যাত্রীতে ঠাসা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়িতে যাওয়ার পথেও অনেককে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ফেরার পথেও তাদের ভোগান্তি পিছু ছাড়েনি। বাসগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ছিল যাত্রীদের। লঞ্চ ও ট্রেনের টিকিট পাওয়া ছিল ভাগ্যের ব্যাপার। আর যারা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বাসে রাজধানীতে ফিরেছেন, তাদেরকে ফেরিঘাটে পড়তে হয়েছে মহা যন্ত্রণায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। দুটি ফেরিঘাটের কাঁঠালবাড়ি ও দৌলতদিয়া পয়েন্টে শত শত যানবাহনকে ফেরির অপেক্ষায় আটকে থাকতে হয়। এসব পয়েন্টে যাত্রীদের পড়তে হয় প্রচণ্ড ভোগান্তিতে।

নৌপথে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে যেসব লঞ্চ সদরঘাটে নোঙর করেছে, তার সবটাতেই ছিল যাত্রীর ভিড়। লঞ্চগুলো দ্রুতই যাত্রী নামিয়ে আবার টার্মিনাল ছেড়ে যায়। অটোরিকশা ও গণপরিবহনের স্বল্পতায় যাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ সুযোগে বাস ও অটোরিকশা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। বরিশাল থেকে শনিবার ভোরে ঢাকায় ফেরা রফিকুল জানান, অনেক কষ্টে সুরভি লঞ্চে তিনি একটি কেবিন পান। যার ভাড়া এক হাজার ২০০ টাকা, তার জন্য দিতে হয় দুই হাজার ৫০০ টাকা। তিনি জানান, প্রত্যেকটি লঞ্চই ছিল যাত্রীতে পূর্ণ।

বিআইডব্লিউটিএর একজন পরিবহন পরিদর্শক (টিআই) জানান, প্রায় ১শ’ লঞ্চ গতকাল সকালে সদরঘাটে ভেড়ে। রোববার অফিস করার জন্য লঞ্চগুলোতে ভিড় ছিল বেশি।

দিনাজপুর থেকে ট্রেনে ঢাকায় ফেরা হিশাম আহসান জানান, রাত ১১টায় তার ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু ছেড়েছে বেশ দেরিতে।

এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে গতকাল যেসব ট্রেন পৌঁছে, তার সবই ছিল যাত্রীতে পূর্ণ। সারা দিনে অর্ধশতাধিক ট্রেন স্টেশনে পৌঁছে।

কাঁঠালবাড়ি ও দৌলতদিয়া ঘাটে যানজটের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা বাসগুলোর কোনোটিই সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছতে পারেনি। বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে কাঁঠালবাড়ি ও দৌলতদিয়া ঘাটে প্রচুর যানবাহন পৌঁছে। ঘাটেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয় যাত্রীদের। মাগুরা থেকে আসা যাত্রী আসিফ হোসেন জানান, তিনি জেআর পরিবহনের এসি বাসে টিকিট কেটেছিলেন। রাত ১১টায় বাস পান। সাধারণত ভোরেই ঢাকায় পৌঁছে যাওয়ার কথা। শনিবার তিনি ফেরেন বেলা ১১টায়।

ঈগল পরিবহনের সুপারভাইজার এনায়েত বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে কোনো গাড়িই যথাসময়ে ঢাকায় পৌঁছতে পারেনি। ফলে গাড়িগুলো সময়মতো ফিরেও যেতে পারছে না। এতে বাসের সিডিউল বিপর্যয় ঘটছে।

গাবতলীর হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের কর্মী ইশারফ জানান, ঘাটে জটের কারণে খুব বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক যাত্রী যানজটের কারণে বাস থেকে নেমে লঞ্চ পার হয়ে অন্য বাসে ঢাকায় ফেরেন।

 

এএস/…

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত