প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কবি শামসুর রাহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন

কবি শামসুর রাহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন

মিঠুন রাকসাম : বাংলা কবিতার বরপুত্র শামসুর রাহমানের আজ ১৩তম প্রয়াণ দিবস। কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন কবির সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। সকালে কবির সমাধিতে কবির আত্মীয় পরিজন শ্রদ্ধা জানান। পরে কবির সমাধিতে সব্যসাচী কবি সৈয়দ শামসুল হকের স্ত্রী কথাসাহিত্যিক সৈয়দ আনোয়ারা হক ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অপর্ণ করেন।বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, কবির লেখা গান বা কবিতা গান করতে পেরে আমি ধন্য।

বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে কবি তারিক সুজাত, বাচিক শিল্পী আকমল হোসেন নিপু, কবি থিওফিল নকরেক প্রমুখ কবির সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে কবিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং কবির সম্মানে ১ মিনিট নিরবতা পালন করেন।

কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে কবি তারিক সুজাত বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর আমাদের প্রধান কবি শামসুর রাহমানের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা জানতে আসি। কবি শামসুর রাহমান ছিলেন আমাদের পথ প্রদর্শক। বাংলাদেশ কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। উনাকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি’।

কবি শামসুর রাহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন

কবিতা পরিষদের সদস্য এবং থকবিরিম সাহিতপত্রের উপদেষ্টা কবি থিওফিল নকরেক বলেন, ‘কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমরা আদিবাসীরা উনাকে সব সময় সাথে পেয়েছি।মুক্তিযুদ্ধে উনার কবিতা সকল মুক্তিযুদ্ধাদের সাহস যুগিয়েছে’।

আধুনিক বাংলা কবিতার বরপুত্র শামসুর রাহমান ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্ম নেয়া এ্ কবি বেঁচে ছিলেন ৭৭ বছর। বিশ শতকের তিরিশের দশকের পাঁচ মহান কবির পর তিনিই আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হিসেবে প্রসিদ্ধ। কবিতায় তিনি সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যেমন প্রতিবাদ করেছেন, তেমনি মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত মানুষকে প্রেরণা দিয়েছেন তার সৃষ্টিশীলতায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তার দুটি কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ একইসঙ্গে পাঠক ও বোদ্ধাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ও সমাদৃত।

কবিতা ছাড়াও উপন্যাস, ছড়া, প্রবন্ধ লেখার পাশাপাশি অনুবাদেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন শামসুর রাহমান। তার রচিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৬৬টি। উপন্যাস লিখেছেন চারটি। একটি করে রয়েছে প্রবন্ধ ও ছড়ার বই। অনুবাদ বইয়ের সংখ্যা ৬টি। সাহিত্যের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার, জীবনানন্দ পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন কবি শামসুর রাহমান। রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কবিকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি দেয়া হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত