প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জীবিত অবস্থায় কী পেলাম, এটা বড় কথা নয়, মনে করেন  মুর্তজা বশীর

জীবিত অবস্থায় কী পেলাম, এটা বড় কথা নয়, মনে করেন  মুর্তজা বশীর

রেন্টিনা চাকমা : ‘জীবিত অবস্থায় কি পেলাম, এটা বড় কথা নয়। মৃত্যুকে অতিক্রম করে টিকে থাকলাম কি না, সেটা বড় কথা। আমার সাধনা হচ্ছে আমি মৃত্যুর পঞ্চাশ বছর পরে জীবিত থাকবো কি না। এখন কেউ আমাকে বড় শিল্পী বললে কিছু যায় আসে না।’ নিজের যাপিত জীবন সম্পর্কে কথাগুলো বলেছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শিল্পী মুর্তজা বশীর।

সিনেমা, কবিতা, উপন্যাস, গল্প এবং চিত্রশিল্প সবখানেই বিচরণ মুর্তজা বশীরের। গবেষণাকর্মেও তার প্রতিভা অসাধারণ। ছয় দশক ধরে বাংলাদেশের শিল্পজগৎকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন নতুনত্ব আর মৌলিকতায়।

বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘নদী ও নারী’র চিত্রনাট্যকার মুর্তজা বশীর ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ছোট ছেলে তিনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী রক্তাক্ত আবুল বরকতকে অন্যদের সঙ্গে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গিয়েছিলেন বরেণ্য এই শিল্পী।

বহুগুণে গুণান্বিত এই শিল্পী নিজেকে জন্মগতভাবে শিল্পী হিসেবে দাবি না করে নিজস্বতাবাদী শিল্পী বলতেই সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। যিনি প্রজাপতির পাখা কিংবা দেয়াল ও পাথরের শরীরে থাকা রঙের ভাষা পরখ করেছেন নিবিড়ভাবে। একইভাবে আলাদা আলাদাভাবে প্রত্যেক মানুষের শরীরের আদর্শিক সৌন্দর্যকে আবিষ্কার করে বিশেষ করে নারীদের আঁকেন নিজস্ব শৈলীতে।

এই মুর্তজা বশীরই এ অঞ্চলের মাঠ-ঘাট-রাস্তা চষে বেড়িয়েছেন নিজেকে জানতে। মাটির টেরাকোটা থেকে পাথরের শিলালিপি পাঠের মধ্য দিয়ে তিনি জানতে চেয়েছেন নিজের ঐতিহ্যের শেঁকড়কে। তিনিই বায়ান্নর ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে আর ১৯৭১ সালের মার্চে স্বাধীনতার কথা বলতে রাজপথে নেমেছিলেন জীবনের তোয়াক্কা না করেই। এসব ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতের অভিজ্ঞতা তার সৃষ্টির জগতকে করেছে আরো প্রসারিত।

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত