প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতিসংঘে ভারত বললো কাশ্মীর ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’, নিরাপত্তা পরিষদ সমাধান দিতে ব্যর্থ

রাশিদ রিয়াজ : নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম সদস্য দেশ রাশিয়া পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, কাশ্মীর দু-দেশের বিষয়। ফলে, পাক-চীনের দাবি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিল না নিরাপত্তা পরিষদ। যার জেরে জাতিসংঘে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্য কোনো পাত্তা পায়নি। জাতিসংঘের দিক নির্দেশনা অনুসারে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে সমাধান তথা সেখানকার বাসিন্দাদের গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ইসলামাবাদ। কিন্তু দিল্লি তা বরাবরের মতই অস্বীকার করে আসছে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইস্যুতে এর আগে আগ্রহ দেখালেও এবার কোনো প্রভাব রাখার চেষ্টাই করেননি। নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম সদস্য দেশ রাশিয়া পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, কাশ্মীর দু-দেশের বিষয়। ফলে, পাক-চীনের দাবি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি নিরাপত্তা পরিষদ যখন জম্মু ও কাশ্মীরে লাখ লাখ মানুষ গৃহবন্দী হয়ে অস্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। রাশিয়ার কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অস্ত্র ক্রয়ের ব্যবসায়ীক স্বার্থ ছাড়াও ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনীতির কাছে পাকিস্তান কার্যত কিছু করতে পারছে না। ওআইসি সহ মুসলিম দেশগুলোও এব্যাপারে রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ।
চীনের সমর্থন নিয়ে কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘে ‘রুদ্ধদার বৈঠক’-এর আর্জি জানিয়েছিল পাকিস্তান। তার প্রেক্ষিতেই শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকা হয়েছিল। যদিও, এই বৈঠকে ভারত ও পাকিস্তানের কেউই সদস্য না-হওয়ায় সরাসরি এদুটি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিতে পারেনি। সাংবাদিকদের জন্যে প্রবেশাধিকার ছিল বারণ। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী এবং ১০ অস্থায়ী সদস্যকে নিয়েই বৈঠক হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠক শেষে জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন বলেন, ‘কাশ্মীরের পরিস্থিতি এমনিতেই খুবই উত্তেজনাপূর্ণ এবং বিপজ্জনক। ভারত ও পাকিস্তান, উভয়েরই কাশ্মীর ইস্যুতে একতরফা পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত।’

এদিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের এই বৈঠকের পর ভারত আরও একবার ৩৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে। ভারতের প্রতিক্রিয়া, ৩৭০ ধারা নিয়ে জাতীয় অবস্থান যা ছিল, সেটাই থাকবে। এটি পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু এ বিষয়টির কোনো সুরাহা গত ৭০ বছরে না হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা উত্থাপন হলে ভারতের তরফ থেকে বলা হয় এটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। এই দ্বিপাক্ষিক ইস্যুর ঘেরাটোপে আটকে আছে আন্তর্জাতিক ও অভিন্ন নদী নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি হিস্যার বিষয়টিও। একই অজুহাতে দক্ষিণ এশিয়ায় এক মুদ্রা বা অভিন্ন বাজার ব্যবস্থা চালু হবার বিষয়টি সুদূর পরাহত।
জাতিসংঘে নিরাপত্তা বিষয়ক দফতরে ভারতের স্থায়ী দূত সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ধীরে ধীরে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বদ্ধপরিকর সরকার। স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পদক্ষেপ করছে সরকার। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্য কোনও বিষয় নেই। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের বাসিন্দাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নই লক্ষ্য’। যদিও ওই এলাকা ভারতের অনেক রাজ্যের চেয়ে এখনই অর্থনৈতিকভাবে উন্নত। সামাজিক সূচকের দিক থেকেও এগিয়ে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তোপ দেগে আকবরউদ্দিন বলেন, পাকিস্তান বরং সন্ত্রাস বন্ধ করে, শিমলা চুক্তি মেনে চলুক। পাকিস্তান কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে যে ছবি তুলে ধরতে চাইছে, তা প্রকৃত সত্য থেকে বহুদূরে বলেই মত ভারতীয় দূতের। পাকিস্তানের নাম না-করে বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হল, জিহাদ শব্দটি ব্যবহার করছে একটি রাষ্ট্র। আর তাদের নেতারা ভারতে সন্ত্রাসে মদত দিচ্ছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত