প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিরিজ বোমা হামলার ১৪ বছর, মামলার নিষ্পত্তি হয়নি আজও

ওয়ালি উল্লাহ্ : আজ ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৪ বছর। ২০০৫ সালের এই দিনে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামের একটি জঙ্গী সংগঠন পরিকল্পিতভাবে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায় একই সময়ে বোমা হামলা চালায়। এতে ২ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক লোক বোমার স্পিন্টারের আঘাতে আহত হন।

১৪ বছর আগের এই দিনে মুন্সিগঞ্জ ছাড়া বাকি ৬৩ জেলায় প্রায় সাড়ে ৪ শ স্থানে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই আত্মঘাতী বোমা হামলায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ ৩৩ জন নিহত হন। আহত হন চার শতাধিক নারী-পুরুষ। অনেকে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

হামলার পর ১৫৯টি মামলা করা হয় যার মধ্যে ৫৯ টি মামলার বিচার কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। অন্যান্য মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের জুলাই মাসে ফরিদপুরের একটি মামলায় ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা চার শ’মধ্যে ৩৩৪ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়।

হামলার ঘটনায় ২৭ আসামিকে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে ৮ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বোমা হামলায় মোট ১৮ টি মামলা হয়। এর মধ্যে চারটি মামলার বিচার নিষ্পত্তি হয়েছে। পাঁচটি মামলা বিচারাধীন আছে এবং বাকি নয়টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। চারটি বিচার নিষ্পত্তিকৃত মামলায় ৩৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত জেএমবির জঙ্গী কার্যক্রমের ঘটনায় সারাদেশে ৩২২ টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চার্জশীট হয়েছে ২৮৯ টির।

১১৫ মামলার বিচার কাজ শেষ হয়েছে। ২৫ মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। ৮ মামলার তদন্ত কাজ চলছে। বিচার শেষ হওয়া ১১৫ মামলার মধ্যে ৯৫ মামলায় আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৫১ জনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। ১৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ১৮৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক সোহেল আহমেদ চৌধুরী ও জগন্নাথ পাড়ে হত্যার ঘটনাটি সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে। ওই সময় বোমা হামলাকারী জেএমবি সদস্য ইফতেখার হাসান আল মামুন হাতে-নাতে ধরা পড়ে। এ দুই বিচারক হত্যা মামলায় জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ সাতজনের ফাঁসির আদেশ দেন আদালত।

২০০৭ সালের ২৯ মার্চ রাতে আল মামুন ছাড়া ছয়জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় করা অনেক মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি মো. আবদুল্লাহ আবু সারাবাংলাকে জানান, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ঢাকায় ১৬টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট ও কয়েকটি মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। চার্জশিট দেয়া মামলাগুলোর মধ্যে দুটি মামলায় রায়ও হয়েছে। বাকি কয়েকটি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে শিগগিরই মামলাগুলোয় শেষ করে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে যাবে, বলেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলাকে তারা ‘সাউন্ড ব্লাস্ট’ নামে আখ্যায়িত করেছে। যেসব জায়গায় সিরিজ বোমা হামলা হয়েছে, প্রতিটি জায়গায় তারা ‘ইসলামী আইন বাস্তবায়ন’ শিরোনামে লিফলেট ফেলে যায়।

এছাড়া জেএমবি প্রতিষ্ঠার পর থেকে একের পর রক্তক্ষয়ী হামলা চালায়। ২০০১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের রক্সি সিনেমা হল ও সার্কাস মাঠে বোমা হামলা চালায় তারা। এরপর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত হামলায় জড়িত ছিল জেএমবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আরও জানান, ২০১৬ সালে গুলশান ও শোলাকিয়ায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা চালিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় জেএমবির নব্য ধারা (নব্য জেএমবি)।

এই দুটি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মুখে সংগঠনটির শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরীসহ অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহত হয়। অনেক শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে। সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়লেও নিঃশেষ হয়ে যায়নি। কারাগারের বাইরে থাকা জঙ্গিরা এখনও গোপনে তৎপর হওয়ার চেষ্টা করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত