প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিজেপিতে যোগ দিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়

রাশিদ রিয়াজ : পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলে থাকা কলকাতা পুরনিগমের দুবারের মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। বুধবার দিল্লিতে মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে দলে টানা, বিজেপির কাছে বড় পাওনা বলে মনে করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের যে সমস্ত নেতারা পদ্ম বাগানে ঢুকেছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে হেভিওয়েট নেতা তৃণমূলের কানন। নয়াদিল্লিতে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে স্বাগত জানিয়ে মুকুল রায় বলেন, “আগামী বছরের শুরুতে কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে জয়লাভ করবে বিজেপি”। তাঁর কথায়, “তিনি বিজেপিকে শক্তিশালী করবেন…আমি বলছি, বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার মতো আসনও পাবে না তৃণমূল কংগ্রেস”।

জন্মলগ্ন থেকেই তৃণমূলে ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুরনিগমের দুবারের মেয়র তিনিই। পাশাপাশি দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন তিনি। মকুল রায় বলেন, বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসীন হওয়ার পিছনে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অবদান রয়েছে। তৃণমূলের তহবিল বৃদ্ধিতেও তাঁর ভুমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।

ক্যামেরাও আজও বন্দি অমর সেই ছবি। শিশুদের জন্য একিট সুমিং পুলের উদ্বোধনে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেই অনুষ্ঠানেই শোভনকে ঠেলে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যাতে সুইমিং পুলে পড়ে যান তিনি। সেই ঘটনাকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি দলনেত্রীর স্নেহের প্রকাশ বলেই মনে করেন অনেকে। তাঁকে “কানন” বলে ডাকতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০১৭-এ নারদ স্ট্রিং অপারেশনের তদন্তে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে তলব করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং সিবিআই। স্ট্রিং অপারেশন চালানো সাংবাদিকদের থেকে যে সমস্ত তৃণমূলনেতাকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ও।

ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যার কারণে., গত নভেম্বরে রাজ্যের মন্ত্রী এবং কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ান শোভন চট্টোপাধ্যায় । সম্প্রতি তাঁকে দলে ফেরাতে এবং ফের ঘাসফুলের হয়ে সক্রিয় করে তোলার চেষ্টা করতে নামে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব, আসরে নামেন খোদ পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যদিও ব্যর্থ হন তিনি।

বেহালা পূর্বের বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেই পদ্ম শিবিরে নাম লেখালেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে, ১৯৮০ তে কলকাতা পুরনিগমের কংগ্রেস কাউন্সিলর ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। ১৯৯৮ এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। সেবারই তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১-এ তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হন শোভন চট্টোপাধ্যায়।

এখনও পর্যন্ত ৬ জন বিধায়ককে দলে টেনেছে বিজেপি। তারমধ্যে কংগ্রেস ও সিপিআইএমের রয়েছেন একজন করে বিধায়ক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত