প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদ্রাসার হাত পাতা স্বভাব আমাকে খুব লজ্জা দেয়!!!

মুনতাকিম চৌধুরী :  চামড়ার মূল্যের ব্যাপারটি আসলে কী? দাম এতো পড়ে যাওয়া কি আসলেই সিন্ডিকেট এর কারসাজি? আমার সেটা পুরোপুরি বিশ্বাস হতে চায় না। আবার, কিছু একটাতো ব্যাপার আছেই, সেটা জানতেও পারছি না।
.

আগের কথা আগে বলি, কোরবানির চামড়া কওমি মাদ্রাসাগুলোতে দেয়া হয় কেনো? কারো যদি মাদ্রাসায় সাহায্য করার ইচ্ছে থাকে, উনি টাকা পয়সা দিলেই পারেন! চামড়া খান না, সেটা ফেলে না দিয়ে মাদ্রাসায় দিয়ে দিচ্ছেন, তাই তো? ব্যাপারটা কেমন যেনো নয়?
.

এই চামড়া সংগ্রহ করতে মাদ্রাসাগুলো ছাত্রদেরকে কী পরিমাণ অমানবিক পরিশ্রম করায়, সেটা একটু খেয়াল করলেই চোখে পড়বে। অনেক মাদ্রাসায় ছাত্রদের জন্যে এই কামলা দেয়া বাধ্যতামূলক। আমার দুই ভাগনে এক মাদ্রাসায় পড়তো, সরকারি কর্মকর্তার এই দুই ছেলে ঐ কামলা দিবে না, তাই তারা মাথা পিছু আঠারশ না যেনো দুই হাজার টাকা মাদ্রাসায় জরিমানা হিসেবে দিতে বাধ্য ছিল। আমরা মাদ্রাসায় চামড়া দিই, সেটা সংগ্রহে মাদ্রাসাগুলো ছাত্রদেরকে এই ফোর্স লেবারের ভিকটিম বানায়। ফেলনা চামড়া দিয়ে ঐ জুলুমে শরিক হচ্ছেন নাতো?
.

আবার বলি, চামড়া সংগ্রহে মাদ্রাসাগুলো ছাত্রদেরকে কী জানোয়ারের মতো খাটায়, সেটা কুরবানির পর কিছুটা সময় পার হয়ে যখন চামড়া সংগ্রহ শুরু হয়, সেই সময় কোনো ছাত্রকে মিনিট তিরিশ-চল্লিশেক ফলো করে দেখুন। যদি আপনার বুক হাহাকার করে না উঠে, তবে আপনি পাষাণ হৃদয়, আমি লিখে দিচ্ছি।
.

সাথে বলে রাখা ভালো, সব মাদ্রাসা এই ফালতু ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত নয়। আমার আরেক ভাগ্নে ঢাকার এক ভালো মাদ্রাসায় পড়েছে, সেখানে এই চামড়া কুড়ানোর ব্যাপারটিই ছিল না। সেই মাদ্রাসা কিন্তু কওমের সহায়তায় দশ তলা দালান হাঁকাচ্ছে, চামড়া সংগ্রহে ছাত্রদেরকে বাধ্যতামূলক শ্রমের জুলুম না করেই।
.

মাদ্রাসাগুলো চামড়া কুড়াবে, আবার তার ভালো দামও পেতে হবে! চামড়া বিক্রিতো বাণিজ্যিক ব্যাপার; বাজার ভালো হলে দাম পাবেন, বাজার মন্দা হলে পাবেন না; এতো অভিযোগে আকাশ ভারি করার কী হলো!
.

আমি আগে জাকাত দেয়ার সময় প্রতি বছর নানা বাড়ির এলাকায় কোনো একজনকে একটি গাভী কিনে দিতাম। গ্রহীতার যোগ্যতা অনুযায়ী ফল হয়েছে। পরের বছর বা তার পরের বছর কেউ ডেকে নিয়ে গেছে, বাইসাব আফনেনু দিসলা বলে একাধিক গরুবাছুর দেখায়; কী ব্যাপার? বলে ঐ একটা থেকে এইগুলো। আবার কাউকে রমজানে গাভী দিয়ে এসেছি, কোরবানির আগেই ফোন এসেছে, তুফানে বারিগর বাংগি লাইলো, বাইছাব কোনো খবর উবরও লইলায় না! চাল বানতে টেকা দিতায় অইবায়!!!
.

গাভী দেয়ার গল্পটি অহেতুক করি নাই; একবার আমি ঢাকার পাশেই এক মাদ্রাসায় গেছি, গ্রামের হিসেবে মাদ্রাসার দালান কোঠা অনেক ভালোই দেখলাম, কিন্তু অভাব আর অভাবের গল্প করতে করতে মুহতামিম সাহব দুপুরের খাওয়াটাই মাটি করে দিলেন। আমি বললাম, যদি কয়েকটি গরু কিনে দেই, ওস্তাদরা-ছাত্ররা মিলে পালতে পারবে না? উনাদের মুখ কালো হয়ে গেলো। ছাত্রদের নাকি সেই সময় নাই বলে জানালো।
.

সেই ঘটনাটি মনে পড়লো, কারণ, চামড়া সংগ্রহ ও বিক্রি করে যদি মুনাফা করতে হয়, তবে মাদ্রাসাগুলো একদিনে ব্যাবসা করে সেই মুনাফা করতে চায় কেনো? তারা সংগ্রহ করে কিছুদিন সংরক্ষণের মতো প্রাথমিক প্রসেস করে রেখে দাম বুঝে বিক্রি করলেই পারতো। কিন্তু, উনাদেরতো সময় নাই! কাজেই এটা হবে না। অথচ, পাকিস্থানের বিশ্ব বরেণ্য মুহাদ্দিসের ব্যাপারে শুনেছি, উঁনি কাপড়ের ব্যাবসায়ী, উঁনি ভেসপা চালিয়ে এসে ক্লাস নিয়ে আবার ব্যাবসার কাজে চলে যেতেন।
.

আমরা সবাই আর একজন বিশ্বের সেরাদের সেরা ওস্তাদের কথা স্মরণ করতে পারি, নোমান ইবনে সাবিত নামের ঐ ওস্তাদ ছিলেন কাপড়ের ব্যাবসায়ি। এমন সফল ব্যাবসায়ি যে, উলটো তিঁনি তার ছাত্রদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভাতা দিতেন। তার ব্যাবসায় সাফল্য, তার ওস্তাদির বাধা হতে পারে নি। এযুগের ওস্তাদরা কি তাঁদের চেয়েও বড় কিছু? বেশী পড়াশোনায় ব্যাস্ত? ব্যাবসা করেও ইমামে আজম হওয়া যায়, চাকুরির বেতন ছাড়া ওস্তাদি হয় না কেনো? মাদ্রাসার টাকা না খেলে মুহতামিম হওয়াই বৃথা যেনো!
.

আমি জানি, এপর্যন্ত যা লিখেছি, তাতেই কতোজনের পিত্তি জ্বলে গেছে!
.

কিন্তু মাদ্রাসার হাত পাতা স্বভাব আমাকে খুব লজ্জা দেয়। আমি মনে করি, কওম নিজের প্রয়োজন মনে করে কওমি মাদ্রাসা চালাবে, কওম গরজ মনে না করলে কওমি মাদ্রাসা চলার প্রয়োজন নাই।
.

মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ বন্ধ করে দিক। চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে নিলে নিবে, না নিলে কোরবানিদাতা সেটা ফেলে দিলে দিবেন, ব্যবহার করলে করবেন। যদি কওমি মাদ্রাসায় সহযোগিতা করার ইচ্ছে থাকে, তবে পকেটের টাকা দিয়ে করবেন, সেটা চামড়া বিক্রির টাকাও হতে পারে।
.
.
.

যদি মূল আলোচনায় যাই, চামড়ার বাজার মূল্য কি আসলেই এতোটা পড়ে গেছে? তা হলে ট্যানারিগুলো কী করছে? পরিচিতদের কাছ থেকে একেবারে প্রাইমারি ডেটা নিবো ভেবে রেখেছি, কিন্তু নিজেই এতো সমস্যায় আছি যে, আপাতত এই নিয়ে সময় দিতে পারছি না। অথচ, জাপানি বায়ারের একটি আলাপ এই সেদিনও শুনলাম, তাতে মনে হয় নাই যে এখানে ব্যবসা বন্ধের উপক্রম।
.

তবে, দাম অফার করে কিনে নিচ্ছে না, এতে অন্তত এইটুকু নিশ্চিত হওয়া যায়, পুরোটাই কারসাজি নয়। কারসাজি হলে দাম কম দিতে চাইতো, তবে শেষ পর্যন্ত কিনে নিয়ে ঘরে তুলতো। অনেকে মাটিতে পুঁতে ফেলছেন, অনেকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন, এইসব ঘটতে দেয়ার কথাতো নয়!
.

মাদ্রাসাগুলো একদিনের ব্যবসায় অনেক মুনাফা করতে পারে নাই, এতে হা হুতাশে আকাশ বাতাস ভারী করে ফেলছি; যারা এই ব্যবসায় সার্বক্ষণিক জড়িত, তারা কোনো লোকসানের মুখে পড়েছেন কি না, সেই খোঁজ নেয়াটাও আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ইনসাফ কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
.

আবার, আজ ঈদের দিন, আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বকসীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানীর অনুমতি দিচ্ছে, ব্যবসায়ীরা যেনো “উপযুক্ত মূল্যে” চামড়া সংগ্রহ করেন!
.

কী? কোনো মতলবের গন্ধ পান? এমন এক হীরক রাজ্যের প্রজা আমি, ঈমান একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে, মনে খালি সন্দেহ কাজ করে।। ভারতে চোরাচালান ঠেকাতে কাঁচা চামড়া রফতানী বন্ধ ছিল, সেটা চালু করতে চামড়ার দাম ফেলে দিয়ে সরকারকে হয়ত বাধ্য করা হলো। এবার বলুন, সবকিছুতেই সরকারের দোষ? দেশের বাকী সব শ্রেণী-পেশার লোক নিরীহ ভদ্র, তাই না?

 

ফেসবকু থেকে …………………

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত