প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দূর হোক কোমলমতি ছাত্রদের দিয়ে কালেকশন নামের এমন অযাচিত আয়-পদ্ধতি

সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর : আমার বউয়ের বান্ধবীর স্বামী কুরবানির ঈদের দিন বাড়িতে আসতে পারবেন না। তার শশুর এবং দুই দেবরও আসতে পারবেন না ঈদের দিন। এ কারণে তাদের বাড়িতে গরু কুরবানি দেয়া হবে ঈদের দ্বিতীয় দিন। দ্বিতীয় দিন তারা সবাই বাড়িতে আসবেন। সেদিন তাদের কুরবানি হবে। বুঝতেই পারছেন, তারা সবাই মাদরাসাকেন্দ্রিক পড়াশোনা এবং পড়ানোওয়ালা ব্যক্তি। বান্ধবীর স্বামী ও শশুর ঢাকার ভিন্ন দুই মাদরাসাশিক্ষক। দেবর দুজনও ঢাকায় কোনো মাদরাসায় পড়ে। কুরবানির দিন তাদের ‘আহাম’ দায়িত্ব : কুরবানির চামড়া কালেকশন করা। চামড়া কালেকশনের দায়িত্ব আঞ্জাম দেয়ার দরুণ ঈদের দিন বাড়িতে থাকা তাদের জন্য সম্ভব নয়।

বাড়িতে তাদের মা-বোন-স্ত্রীরা নিরানন্দ ঈদ কাটাবেন। স্বাভাবিকভাবেই বুঝতে পারা যায়, যে বাড়ির বাবা-ভাই-স্বামী ঈদের দিন বাড়িতে থাকতে পারেন না, সে বাড়িতে ঈদ কতটা নিরানন্দ হয়। তাদের বাড়ির চারপাশের সকল বাড়িতে গরু কুরবানির আনন্দঘন মচ্ছব চলবে, কেবল তাদের বাড়িতে ঈদের ধুম নেই। বাড়ির ছোট বাচ্চারা বাবা-ভাইয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকবে। বারবার জিজ্ঞেস করবে, ‘আব্বু কখন আসবে? ভাইয়া কখন আসবে?’

দুই.

দ্বিতীয় আরেকটি চিত্রও ইদানীং দেখা যাচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন মাদরাসা থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে : ছাত্রদের কেউ এক হাজার থেকে পনেরো শ’ টাকা মাদরাসার ফান্ডে জমা দিতে পারলে তার জন্য ঈদের আগেই ছুটি মঞ্জুর। সে বাড়ি গিয়ে মা-বা, ভাই-বোনদের সঙ্গে ঈদের খুশি কাটাতে পারবে। এই অংকের টাকা ছাত্ররা তাদের বাড়ি ও আত্মীয়-স্বজনদের কুরবানির চামড়া থেকে সংগ্রহ করতে পারবে। এ উদ্যোগকে এক অর্থে স্বাগত জানাই। এতে অন্তত অবস্থাসম্পন্ন অনেক ছাত্র নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে হলেও ঈদটা পরিবারের সঙ্গে করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, তাকে অন্তত চামড়া কালেকশনের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে চিঠি ও রশিদ বই নিয়ে ঘুরতে হবে না। খ্যামটা পাবলিকের মুখ ঝামটা শুনতে হবে না। ঈদের দিন ছুরি হাতে গলিতে গলিতে টহলও দিতে হবে না। ঈদের দিন চামড়া টানার ফাঁকে ফাঁকে মায়ের কথা মনে পড়ে চোখের কোণে অব্যক্ত অশ্রুও জমা হবে না।

আশার কথা হলো, একটা সময় এমন সুযোগও ছিল না। তুমি যত ধনী মানুষের ছেলেই হও, মাদরাসার জন্য তোমাকে চামড়া কালেকশন করতেই হবে। তুমি দশ হাজার টাকা দিলেও ঈদের দিন তোমাকে চামড়া নিয়ে টানাটানি করতেই হবে। এটাই নাকি দেওবন্দিয়্যাত। আকাবির-আসলাফের সহিহ পদাঙ্ক অনুসরণ নাকি চামড়া টানার মধ্যেই নিহিত!

যাক সে কথা। পরিবর্তন কিছুটা হলেও হচ্ছে। যেটা আরও আগে হওয়া দরকার ছিল, সেটা কেবল হচ্ছে। যেটা আরও দ্রুত হওয়া প্রয়োজন ছিল, সেটা ধীরে হচ্ছে। তবু তো হচ্ছে। এমন দিন খুব শিগগির আসবে, যেদিন প্রতিটি কওমি মাদরাসা কুরবানি ঈদের পাঁচ দিন আগেই ছুটি হয়ে যাবে। ছাত্ররা নিজেদের মতো নিজের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কুরবানির পশুর চামড়ার মূল্য ছুটির পর মাদরাসায় এনে জমা দেবে। আশা রাখি, বাংলাদেশের প্রতিটি কওমি মাদরাসা থেকে দূর হবে কোমলমতি ছাত্রদের দিয়ে কালেকশন নামের এমন অযাচিত আয়-পদ্ধতির।’ ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত