প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১১ দফা দাবিতে সারাদেশে নৌযান ধর্মঘট চলছে

মহসীন কবির : বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, খোরাকি ভাতা ফ্রি করা, কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১১দফা দাবি আদায়ে সারাদেশে একযোগে নৌধর্মঘট চলছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে এই কর্মসূচি পালন শুরু হয়েছে।

এর আগে গত ২০ জুলাই থেকে ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে নামে নৌযান শ্রমিকরা। ওই দিন বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে দাবি মেনে নেয়ার জন্য ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়ে ২৩ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছিল শ্রমিকরা।

নৌযান শ্রমিকদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো- বিভিন্ন নৌবন্দরে নৌ-শ্রমিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার বিচার, মেরিন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, নৌপথে প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি প্রদান করা এবং দুর্ঘটনায় মৃত নৌ-শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল জেলার সভাপতি শেখ আবুল হাসেম জানান, একই দাবিতে গত ১৫ এপ্রিল ধর্মঘটের প্রেক্ষিতে শ্রম অধিদপ্তরে লঞ্চ মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিলো। তখন ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে আমাদের দাবির বিষয়ে আলোচনা ও মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়। এ কারণেই তখন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

কিন্তু ৪৫ কর্মদিবস শেষ হয়েছে অনেক আগেই। অথচ দাবি পূরণ দূরের কথা পরবর্তী কোন আলোচনার জন্যও আমাদের ডাকা হয়নি। তাই নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন পুনরায় সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। তবে ২২ জুলাই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এবং বরিশাল থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী নৌযানগুলো ধর্মঘটের আওতায় ছিল না। সকালে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার পর ওইসব লঞ্চের শ্রমিকরাও কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।

এদিকে, বুধবার সকাল হতেই একতলা লঞ্চগুলো বরিশাল নৌবন্দর থেকে সরিয়ে মাঝ নদীতে বার্দিং করে রাখা হয়েছে। একইভাবে পণ্যবাহী নৌযানগুলোও মাঝ নদীতে নোঙর করে রাখা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীবাহী নৌযান বন্ধ থাকার ফলে ভোরে লঞ্চ যোগে আসা অভ্যন্তরীণ রুটের বিপুল সংখ্যক যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছে। কিছু সংখ্যক যাত্রী স্পিডবোর্ড ও ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। আবার কিছু যাত্রী নৌবন্দরে যাত্রী ছাউনিতে অবস্থান নিয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরিশাল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এবং বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা সরকার মিঠু বলেন, সকালে ঢাকার লঞ্চ বরিশালে পৌঁছালেও শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে অভ্যন্তরীণ রুটের সকল লঞ্চ বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের সাথে কথা বলে লঞ্চ ছাড়ার বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কেন্দ্রের নির্দেশনা ছাড়া যাত্রী এবং পণ্যবাহী কোন নৌযানই চলাচল করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। রাশিদুল/মারুফ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত