প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একদিনে এক ডজন রোগীর বুকে পেসমেকার বসালেন ভারতীয় ডাক্তার চন্দন মিশ্র

রাশিদ রিয়াজ : কলকাতার কোনও মেডিক্যাল কলেজ নয়। অভিনব এই কৃতিত্বের সাক্ষী কল্যাণীর গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল। সেখানকার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চন্দন মিশ্র একাই পর পর ১২টি পেসমেকার স্থাপনের নজির গড়লেন সোমবার। বিকেল হয়ে গিয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পার। এমন সব কারণ দেখিয়ে অপেক্ষায় থাকা রোগীর সে দিন আর অস্ত্রোপচার করা হল না, এমন নজির নিত্য দেখা যায় সরকারি হাসপাতালে। অপেক্ষমান রোগীর তালিকা যাতে অনর্থক লম্বা হয়ে না-যায়, সেই জন্য পর পর এসব রোগীর বুকে পেসমেকার বসানো হল একদিনে!

সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় যেখানে এমনটাই দস্তুর, সেখানে একেবারে বিপরীত ছবি দেখা গেল রাজ্যেরই একটি সরকারি হাসপাতালে। অপেক্ষমান এবং সেই অসাধ্য সাধন করলেন মাত্র এক জন চিকিৎসক। চিকিৎসক মহলের একাংশের অভিমত, অতীতে এমন নজির নেই। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, টানা ১২ ঘণ্টা ধরে ক্যাথ ল্যাবে চলা এই ম্যারাথন পেসমেকার স্থাপনের পরেও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে অঘটন তো দূরের কথা, কোনও রকম বিচ্যুতিও হয়নি। মঙ্গলবার ১২ জন রোগীর সকলেই ভালো আছেন। এর মধ্যে আট জন কমপ্লিট হার্ট ব্লক, তিন জন সিক-সাইনাস সিন্ড্রোম ও এক জন লেফট বান্ডল ব্লক ব্র্যাঞ্চের সমস্যা নিয়ে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে।

হাসপাতালের সুপার অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় উচ্ছ্বসিত চন্দনের কাজে। তিনি বলেন, ‘উনি (চন্দন) অসম্ভব উদ্যমী এক জন চিকিৎসক। কাজ ফেলে রাখতে শেখেননি। যত চাপই পড়ুক, উনি অবলীলায় সেই চাপ নিয়ে নেন।’ প্রবীণ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মনোতোষ পাঁজা বলেন, ‘কাজটা রীতিমতো কষ্টসাধ্য। এতে বেশ কয়েক জন মরণাপন্ন রোগীর অকালমৃত্যুর ঝুঁকি যেমন কমল, তেমনই অযথা হাসপাতালে ভর্তি থেকে সংক্রমণের কবলে পড়ার ঝুঁকিও অনেকটা কমানো গেল। সেই জন্যই কাজটি প্রশংসার দাবি রাখে।’

সকলের অভিনন্দনে আপ্লুত চন্দন বলছেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ক্যাথ ল্যাবে ঢুকিনি। মাঝে কিছু দিন পেসমেকার সরবরাহে সমস্যা ছিল বলে অপেক্ষমান রোগীর তালিকা বেড়ে গিয়েছিল। তাই ভেবেছিলাম, আর পাঁচটা দিন গড়ে যেখানে চার-পাঁচটা করে পেসমেকার বসাই, সোমবার তার দ্বিগুণেরও বেশি বসাব। কিন্তু ভাবিনি, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় দিনের শেষে ১২ জন মুমূর্ষুর বুকে পেসমেকার বসিয়ে দিতে পারব।’ তিনি জানান, হাসপাতালের অন্য দুই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তন্ময় চৌধুরী ও অর্ণব রায়ের উৎসাহ ছাড়া এই সাফল্য তিনি হয়তো পেতেন না।

সরকারি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রও বাহবা দিচ্ছে চন্দনকে। গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল রাজ্য স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ক্যাম্পাস হাসপাতাল। তার সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজেন পাণ্ডে বলেন, ‘অনন্য নজির গড়েছেন ওই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। ওঁর এই কাজ নিঃসন্দেহে অন্য চিকিৎসকদের উৎসাহ জোগাবে।’ রাজ্যের যে হাসপাতালে সব চেয়ে বেশি পেসমেকার স্থাপন হয়, সেই এসএসকেএমের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান শঙ্করচন্দ্র মণ্ডল জানান, তাঁদের হাসপাতালে গড়ে প্রতি মাসে ১৫০-১৬০ জন রোগীর বুকে পেসমেকার বসে। তাঁর কথায়, ‘একদিনে এসএসকেএমে ২২টি পেসমেকার বসানোর নজিরও আছে। কিন্তু এক জন নয়, অন্তত তিন জন চিকিৎসক মিলে সে কাজ করেন।’ আর এখানেই গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও চন্দন মিশ্রের কৃতিত্ব। এই সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত