প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৬শ’ কোটি টাকার পাটপণ্য অবিক্রিত, পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে

আহমেদ শাহেদ : বড় দুর্দিন চলছে পাট খাতে। পাটপণ্যের মজুদ বেড়ে বর্তমানে ৭০ হাজার টন দাঁড়িয়েছে। দেশে কেউ কিনছে না, রফতানিও হচ্ছে না। অবিক্রীত পাটপণ্যের এই মজুদ নিয়ে বিপদে আছেন উদ্যোক্তা। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। বিক্রি না হওয়ায় উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে অনেক কারখানা। তারপরও মজুদ বাড়ছে। আর গুদামে পাটপণ্য সংরক্ষণ ব্যয়, ব্যাংক ঋণ পরিশোধের তাগাদা তীব্র হচ্ছে। তাই চরম সংকট এখন পাট খাতে।

পাটের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ২০১০ সালে আইন করে সরকার। ওই আইনে বিভিন্ন পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহারে বাধ্যবাধকতার বিধান করা হয়। প্রথমে ৬ পরে ১৩টি এবং সবশেষ  ১৯টি পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির বিধানও রাখা হয়। কিন্তু এ আইনের প্রয়োগ তেমন একটা চোখে পড়ে না।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, আগের বছরের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্যের রফতানি কমেছে ২১ শতাংশ। রফতানি হয়েছে ৮২ কোটি ডলার। এর আগের অর্থবছর এর পরিমাণ ছিলো ১০৩ কোটি ডলার।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, রফতানি কমার প্রধান কারণ হচ্ছে, ভারত সরকারের অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কারোপ। ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৫২ ডলারসহ বিভিন্ন হারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করেছে দেশটি। এরপরই দেশটিতে পাটপণ্যের রফতানি কমছে ব্যাপক হারে। ভারতীয় উদ্যোক্তাদের অভিযোগ হলো- বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম দামে ভারতে পাটপণ্য রফতানি করছেন। আমাদের দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা জানান, ভারতীয় উদ্যোক্তাদের এ দাবি মিথ্যা।

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারত ছাড়াও  প্রায় সব বাজারেই পাটপণ্যের সংকট চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে সেখানে রফতানি কমছে। আফ্রিকান ঘানা ছিলো বাংলাদেশের পাটের প্রধান বাজার। বছর দুয়েক আগে সে দেশে পাটকল চালু করেছে ভারত। এ কারণে সেখানেও এখন  বাংলাদেশের পাটপণ্যের চাহিদা নেই।

বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) সূত্রে জানা গেছে, তাদের মিলগুলোর অবিক্রীত পাটপণ্যের পরিমাণ ৭০ হাজার টন। যার বাজার মূল্য বর্তমানে ৫৮০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা। ২ বছর ধরে এসব পণ্য গুদামে পড়ে আছে।

এমন পরিস্থিতিতে  পাটের বাণিজ্য বাড়াতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি  মঙ্গলবার বলেছেন, পাট খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। রফতানিপণ্যে বৈচিত্র্য আনার পদক্ষেপ হিসেবে পাটপণ্যসহ কিছু পণ্যকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বিভিন্ন ধরনের পাটপণ্যের চাহিদা এখন বাড়ছে। ফলে পাটপণ্যের রফতানি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় সরকার।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাটের অভ্যন্তরীণ বাজার বাড়াতে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি, মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, ধনিয়া, আলু, আটা, ময়দা ও তুষ-খুদ-কুঁড়া, পোলট্রি ফিড ও ফিস ফিড পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যবাধতামূলক করা হবে। এ আইন কার্যকরে আগামী মাসে রাজধানীসহ সারাদেশে অভিযান চালানো হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান পরিচালনা করবে। রাজধানীর প্রবেশপথ, স্থল ও নৌবন্দর, সড়ক-মহাসড়কসহ সারাদেশে একসঙ্গে চালানো অভিযানে চালাবে র‌্যাব-পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এবার উপজেলা পর্যায়েও অভিযান চালানো হবে। সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম ও সালেহ্ বিপ্লব

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত