প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গণপিটুনিতে তাসলিমাকে হত্যা : যতোবার চেষ্টা করেছি ব্যর্থ হয়েছি আর অশ্রুজলে ভেসেছি

কামরুল হাসান মামুন : গণপিটুনি দিয়ে দুই শিশুকে মাতৃহারা করে সারাজীবনের জন্য এতিম বানিয়ে দিলো। এই দেশের গণরা যে আজ অসভ্যতার চরমে পৌঁছেছে এই ঘটনা তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সকালবেলা আদর করে সন্তানকে বাসায় রেখে গিয়েছিল সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য কী করতে হবে জানতে। মা আর সন্তানের কাছে ফিরে যেতে পারেনি। মাকে যখন ছেলেধরা বলে মারছিলো তখন বারবার বলছিলেন আমার দুটি সন্তান আছে। আমি ছেলেধরা নই। কিন্তু এই গলিত পচিত সমাজের মবের তখন খুনের নেশা পেয়েছে। এই গণপিটুনির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে চেষ্টা করলাম। বিশ্বাস করেন কয়েক সেকেন্ডও দেখতে পারিনি। একবার না কয়েকবার চেষ্টা করেছি। যতোবার চেষ্টা করেছি ব্যর্থ হয়েছি আর অশ্রুজলে ভেসেছি। কেবলই তার সন্তানের কথা মনে হয়েছে। চিমটির ব্যথার মাত্রা বুঝতে হলে নানা মাত্রার চিমটির অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। নিজে পিতা হওয়ায় আর সেই সন্তানদের মাকে কাছ থেকে দেখে বুঝতে পারি এই মায়ের সেই সময়ের ভিতরে ঘটে যাওয়া মনের অবস্থা। আমি নিশ্চিত শেষ নিঃশাস ত্যাগ করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্তও সে তার সন্তানদের কথাই ভেবেছেন। এটা ভাবতে গিয়ে হয়ত বাঁচার রাস্তা খুঁজতেও ভুলে গিয়েছিলেন। হায়রে মা! এই একটি মৃত্যুর ভার বহন করে চলবে তার দুটি শিশু। সারাটি জীবনের জন্য কি নিদারুণ কষ্ট। তারা যতো বড় হবে ততোই বুঝতে পারবে তাদের মা কোনো রোগে অসুখে মরেনি। তাদের মা মরেছে রাষ্ট্রের অসুখে। অসুখ একটি রাষ্ট্রের আর তার কষ্ট বয়ে বেড়াবে দুটি ছোট প্রাণ। ছোট মেয়েটির একটি ভিডিও দেখলাম। অনেকেই তাকে তার মায়ের কথা জিজ্ঞেস করছে। কেন? তাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তার কষ্টকে বের না করলে বুঝি আনন্দ লাগে না? লাসার গণ!

গণপিটুনির অর্থই হলো রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি গণমানুষের অনাস্থা। তারা যখন মনে করে পুলিশে দিলে সঠিক বিচার পাবে না তখন ভাবে বিচারটা তারাই করে ফেলবে। গণপিটুনির অর্থই হলো গণমানুষের সঠিক শিক্ষার অভাব। এটা এক পৈশাচিক আচরণ। একটি স্কুল প্রাঙ্গন ও তার আশেপাশে সাধারণত শিক্ষিত মানুষরাই থাকে। অর্থাৎ সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিতরা এখন আসলে আর শিক্ষিত নয়। রিফাত হত্যা! সেটিও হয়েছিলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে। নুসরাতকে গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই সামনে। এইসব হত্যাকা-ে যারা জড়িত তাদের সবাই স্কুল কলেজ পাশ করা। এই ক্ষেত্রেও ভিডিওতে দেখেছি যারা মারছে তাদের দেখলেই বোঝা যায় কেউ অশিক্ষিত নয়। এইসব দেখে আমার একটি কথাই মনে হয় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় মারাত্মক ত্রুটি আছে। আমাদের জলদি এই ত্রুটি সারাতে হবে। কিন্তু ত্রুটি যে আছে সর্বাগ্রেতো এটা স্বীকার করতে হবে! আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো নৈতিকতা ও ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেওয়া এখন আর সেন্ট্রাল পয়েন্ট না। সভ্য মানুষ হিসাবে তৈরি করা এখন আর সেন্ট্রাল পয়েন্ট না। এই কাররিকুলাম দিয়ে আমরা আমাদের প্রজন্মকে মানুষ বানাতে পারছি না। এটিকে মেরামত জরুরি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত