প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা জরুরি, দাবি পবা’র

স্বপ্না চক্রবর্তী : ডেঙ্গু মশা রোধে জম্মানোর স্থান ধ্বংস এবং জাতীয়ভাবে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি বলে দাবি করেছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। সংগঠনটির নেতারা বলেন, ডেঙ্গু মশা উৎপাদনের স্থান ধ্বংস করতে নাগরিকদের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ভিত্তিক কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সংক্রামক ব্যাধি আইন ২০১৮ এবং সিটি কর্পোরেশন আইনের অধীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ আইন অনুসারে যে সকল ব্যক্তি নিজেদের বাড়ি পরিস্কার করেননি তাদের শাস্তির পাশাপাশি সংস্থাগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার পবা মিলনায়তনে পবা, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, গ্রিন ফোর্স, বানিপা, বিসিএইচআরডি’র যৌথ উদ্যোগে “দেশব্যাপী ডেঙ্গুর বিস্তার : জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাউস পিয়ারী, পরিচালক ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, সম্পাদক পবা মেসবাহউদ্দিন আহমেদ সুমন, গ্রিন ফোসর্, কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, প্রকৌ: মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ নিরাপদ পানি আন্দোলন মাহাবুবুল হকসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

পরিবেশবিদ আবু নাসের খান বলেন, ডেঙ্গু দিন দিন যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তার জন্য একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা জরুরি। বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয় ২০০০ সালের দিকে। শুরুর সময় থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রধানত ঢাকা শহরে সীমাবদ্ধ ছিলো। সে সময় ঢাকায় এডিস মশার প্রজনন স্থল পুরোপুরি ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করে রোগটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। এখন প্রশ্ন উঠেছে রাজধানী থেকে সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার দায় কার? কার বা কাদের দায়িত্ব অবহেলার দরুন দেশ আজ একটি ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে? দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে কি?

ডা. লেলিন চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, দেশব্যাপী ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, মোট ২৬ জন মৃত্যুবরণ করেছে। জানা গেছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দুই ঢাকায় মশা মারার জন্য যে ওষধ ছিটিয়ে আসছিলো তা মশার বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা এখন সময়ের প্রধান দাবি।

জনস্বাস্থ্য আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুসারে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন স্থল ধ্বংসে ব্যক্তির পাশাপাশি সংস্থাগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব। সিটি কর্পোরেশন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত প্রথমে সকল নাগরিকদের এবং ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় ডেঙ্গু মশা উৎপাদনের স্থান পরিস্কারের নির্দেশ প্রদান এবং একটি মনিটরিং সেল স্থাপন করা যেখানে নাগরিক ডেঙ্গু মশা উৎপাদনের স্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবে। যে সকল ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হবে তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা। সংক্রামক ব্যধি আইন অনুসারে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদÐ, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দন্ডিত করা সম্ভব। ডেঙ্গুর উৎপাদন স্থান কার্যকরভাবে ধ্বংস করা হলে এ রোগের প্রকোপ কমে আসবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে অবিলম্বে একটি জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ ও গাইড লাইন অনুযায়ী এটি প্রণীত হতে পারে, ডেঙ্গু উৎপাদন স্থান ধ্বংসে নাগরিকদের এবং ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় ডেঙ্গু মশা উৎপাদনের স্থান পরিস্কারের নির্দেশ প্রদান, মনিটরিং সেল স্থাপন এবং নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার আইন অনুসারে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, জাতীয় কর্ম পরিকল্পনায় সকল স্তরের জনপ্রতিনিধি, সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যুক্ত করতে হবে। প্রত্যেককে স্ব স্ব ফোরামে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

সম্পাদনা : মিঠুন/

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত