প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জেরেমি হান্টকে হারিয়ে নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত বরিস জনসন

আসিফুজ্জামান পৃথিল : শুরু থেকেই বলা হচ্ছিলো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দৌঁড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। সেই ধারণাকেই সত্যতে পরিণত করে টোরি নেতৃত্ব প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত ভোটাভুটিতে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টকে হারিয়ে দিলেন এই কট্টরপন্থী নেতা। বরিসের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের শঙ্কা আরো ঘনীভূত হলো। ডেইলি মেইল, বিবিসি, সিএনএন।

নির্বাচিত হয়েই বরিস জনসন বলেছেন, তিনি অবশ্যই ব্রেক্সিটকে সম্ভব করে তুলবেন। একইসঙ্গে বিরোধী লেবার দলীয় নেতা জেরেমি করবিনকে রাজনীতিতে পরাজিত করার ঘোষণাও দেন তিনি। বরিস বলেছেন, টোরি পার্টির কর্মী সমর্থকদের একতাবদ্ধ থাকতে হবে। তাহলে তিনি যুক্তরাজ্যকে ইউরোপ ও বিশে^র শীর্ষে নিয়ে যেতে পারবেন। লন্ডনের এই সাবেক মেয়র কনজারভেটিভ পার্টির প্রায় দেড় লাখ কর্মীর পোস্টাল ভোটের ৬৬ শতাংশ একাই পেয়েছেন। জেরেমি হান্ট তার সামনে এক রকম টিকতেই পারেননি। বরিস জনসন আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি শুরু থেকেই বলছেন, অক্টোবরের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই ব্রেক্সিট দিয়ে দেবেন। প্রয়োজনে তার চুক্তিহীন ব্রেক্সিটেও আপত্তি নেই।

টোরি পার্টির নেতা ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলে বরিেেসর বাবা স্ট্যানলি, বোন র‌্যাচেল এবং ভাই জো। তবে তার প্রেমিকা ক্যারি সিমন্ড উপস্থিত ছিলেন না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ক্যারির সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর কারণে কিছুটা হলেও জনপ্রিয়তা কমেছিলো বরিসের। তবে তা তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে কোন বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরিসের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, জনসন অসাধারণ কাজ করবেন। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রেক্সিট নেগোশিয়েটর মিচেল বার্নিয়ার হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, ইইউ আর যুক্তরাজ্যের একটি চুক্তির সম্ভাবনা এবার হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। নিজের বক্তব্যে জনসন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিলো এই বিশে^র রাজা হওয়া। তিনি হান্টকে শ্রদ্ধা জানান। এবং দেশকে অসাধারণ সেবা করার জন্য থেরেসা মেকে ধন্যবাদ জানান। বরিস জনসন বলেন, তার দল কনজারভেটিভ পার্টি ইউরোপের সঙ্গে একটি নিবিড় সম্পর্কের কথা ভাববে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে কাজ করবে।

তবে এই ফল ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড, রোরি স্টুয়ার্ডের মতো মধ্যপন্থী নেতারা। আধিক্য ছিলো ১৯২২ কমিটি এবং অতি কট্টরপন্থী বলে পরিচিত কনজারভেটিভ নেতাদের। ফিলিপ হ্যামন্ড আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন তিনি বরিস এলেই পতত্যাগ করবেন। আরো কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগের কথাও শোনাও যাচ্ছে। সোমবারই পদত্যাগ করেন ৯ জন মন্ত্রী। এদিকে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের কলঙ্কের ভাগীদার হতে চাননা জানিয়ে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী অ্যানে মিল্টন। সম্পাদনা : ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত