প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগে বিড়ম্বনা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

বিল্লাল হোসেন, কুবি প্রতিবেদক : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন কাজ চললেও ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেনা বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। অন্যদিকে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট খরচ বাবদ মাসিক ২ লাখ টাকা কেটে নিচ্ছে ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের (বিডিরেন) তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পাসজুড়ে শক্তিশালী ইন্টারনেট সংযোগের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পুরো ক্যাম্পাসকে ইন্টারনেটের আওতায় আনার কথা ছিল। প্রকল্পটি শুরুর দেড় বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় তিন বছরেও আলোর মুখ দেখেনি।

এদিকে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেলেও আবাসিক হলগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা এখনো সুবিধা না পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও অনুষদ ভবনগুলোতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ও হলগুলোতে পরীক্ষামূলক ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা ব্যবহারও করেছে। এখন ইচ্ছে করলেই শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট উন্মুক্ত করে দেয়া যেতে পারে।

প্রশাসন ইন্টারনেট সংযোগের কথা বলে প্রায় তিন বছর ঘুরিয়েছে বলে অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা। এখন শিক্ষকদের সংযোগ দেয়া হলেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। যখনই সংযোগ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বিভিন্ন সময় দিয়ে ঘুরানো হয়।

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিক আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের মতো ইন্টারনেট জট লেগেছে। কবে এ থেকে মুক্তি পাবো জানি না। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের ইন্টারনেট সংযোগ দিবে।

অন্যদিকে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে ইন্টারনেট খরচ বাবদ ২ লাখ টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। হিসেবে দেখা গেছে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারনেট বাবদ ১২ লাখ টাকা খরচ করা হলেও শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট সেবা পাননি।

মাসিক ২ লাখ টাকা কেটে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি উপদেষ্টা মাহমুদুল হাছান বলেন, প্রকল্পটি চলমান অবস্থায় কিছু জায়গা বেশি নেয়া হয়। ফলে কাজ শেষ হতে দেরি হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউজিসি থেকে সরাসরি ইন্টারনেট খরচের টাকা কেটে নিচ্ছে। তাছাড়া আমাদের কাজ শেষ না হওয়ায় আগের কমগতি সম্পন্ন সংযোগে ছিলো। আর তা দিয়ে দ্রুতগতির নেট নেয়া সম্ভব ছিলো না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব ইন্টারনেট সেবা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ উন্মুক্ত করে দেব।সম্পাদনা : সুতীর্থ ও সাজিয়া

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত