প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাবিতে তালা ভাঙলো ছাত্রলীগ, উপাচার্যকে স্মারকলিপি, আখতারের ওপর হামলার অভিযোগ

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন: সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে দেয়া তালা ভেঙে দিয়েছে ছাত্রলীগ। এ আন্দোলনে অংশ নেয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক আখতার তার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ছয়দিন ধরে আন্দোলন করছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে এ আন্দোলনের নিরসন এবং সাত কলেজের সমস্যার দ্রুত সমাধান ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মঙ্গলবার দুপুরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেয়া তালা ভেঙে দেন নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের ভেতরে সমাবেশ শেষে উপাচার্য কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনটি।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সিনেটে আমার প্রথম দাবি ছিল, সাত কলেজের সমাধান করতে হবে। তখন ভিসি বলেছেন, অনতিবিলম্বে সাত কলেজের সমাধান করা হবে। কিন্তু তা হয়নি। আমাদের একমাত্র আস্থা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা তার কাছে বলেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য কাজ করে ছাত্রলীগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আলোচনা করে এর সমাধান করা হবে। ছাত্রলীগ ডাকসুর সঙ্গে বসে এর একটা সমাধান করবে। আপনারা আস্থা রাখুন। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবো, কিন্তু ক্লাস-পরীক্ষা চলমান রাখতে চাই। যেখানে আলোচনা করে সমাধান করা যায়, সেখানে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। যদি আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এর সমাধান না হয়, তাহলে ছাত্রলীগই আন্দোলন করবে।’

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ চলমান রাখতেই আমাদের আজকের প্রোগ্রাম। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীর অধিকার আদায়ে সব সময় কাজ করছে। সাত কলেজকে ঢাবির অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হলো, বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্ডারে অনেক কলেজ থাকে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্যে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপ্রেক্ষিতে তা করা যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাত কলেজকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিন্তা করেন। আমরা শিক্ষামন্ত্রী ও প্রোভিসির সঙ্গে সাত কলেজ নিয়ে কথা বলেছি। সাত কলেজ কোনো বিষয় নয়, আমাদের দাবি শিক্ষার মানোন্নয়ন। আমাদের শিক্ষার মানোন্নয়ন হচ্ছে না। যেহেতু এগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে, তাই বুধবার থেকে আমরা ক্লাস করবো।’

ডাকসুর এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নিয়ে একটি দল ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে। অধিকার আদায়ের নামে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক যে অধিকার, ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সেই অধিকারকে বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার জিম্মি করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না।’ আন্দোলনের নামে ঐতিহ্যবাহী সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কটূ মন্তব্য ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান সাদ্দাম। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বুধবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার আহবান জানান তিনি। ক্লাস-পরীক্ষায় কেউ বাধা দিলে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার নির্দেশও দেন সাদ্দাম।

এদিকে আখতারের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত