প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এডিবির অর্থেই ঢাকা-সিলেট চারলেন হচ্ছে

মো.ফরহাদ উজজামান: চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চায়না হারবার কাজটি পেতে মরিয়া হলেও সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকই (এডিবি) পেতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত ভাবে বাদ গেলো চীনা কোম্পানি। ২১৪ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ঢাকা-সিলেট চারলেন নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগীর সন্ধানে ছিলো সরকার।

গুরুত্বপূর্ণ প্র্রকল্পে অর্থায়নের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ঢাকা-সিলেট চারলেন নির্মাণের পিডিপিপি (প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলো। এর আগে ‘ইম্প্রুভমেন্ট অব ঢাকা (কাচপুর)-সিলেট রোড টু ফোরলেন হাইওয়ে অ্যান্ড কন্সট্রাকশন অব সার্ভিস লেন অন বোথ সাইড’ প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রকল্পটির পিডিপিপি অনুমোদন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ১৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। চলতি সময় থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির অনুকূলে বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিলো ইআরডিকে।

স্বল্পসময়েই কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সহযোগী খুঁজে পেয়েছে ইআরডি। ইআরডি সূত্র জানায়, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ জানিয়েছেন, প্রকল্পে যত ব্যয় হবে সবই অর্থায়ন করবে এডিবি প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি, মূল প্রকল্প প্রণয়ন ও ঋণ নেগোসিয়েশনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছে সংস্থাটি।

এর আগে প্রকল্পের কাজ পাওয়ার জন্য সড়ক ও মহাসড়ক সচিব নজরুল ইসলাম খানকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ সাধে চীনের রাষ্ট্রায়াত্ত কোম্পানি চায়না হারবার। এ প্রকল্পে চীন সরকারের অর্থায়ন করার কথা। কিন্তু ঘুষ সাধার অপরাধে কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে বাংলাদেশ সরকার।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করেছে সরকার। এমনকী দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা করে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) প্রস্তুত করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

চীনের অর্থায়নে ২২৬ কিলোমিটার সড়কের কথা উল্লেখ থাকলেও নতুন করে তা কমে ২১৪ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করবে সরকার। এডিবি অর্থায়নের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ডিপিপিতে। চীনের অর্থায়নের সব কিছুই ডিপিপি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানায়, মূল সড়কের উভয়পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন নির্মিত হবে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাঁক সরলিকরণসহ অধিকমাত্রার ট্রাফিক বিবেচনায় এনে ৮০ কিলোমিটার গতিবেগ নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে চায়ের প্যাকেটের মধ্যে বিদেশি মুদ্রায় ঘুষ সাধে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং। পরে সেই অর্থ ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেয়া হয়। একই সঙ্গে চায়নার সব ধরনের সম্পৃক্ততা প্রকল্প থেকে তুলে নেওয়া হয়। সম্পাদনা: রেজাউল ও রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত