প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামায়াত নেতার পিএইচডি নিয়ে চবিতে লুকোচুরি : তিন শিক্ষককে শোকজ

ডেস্ক রিপোর্ট  : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির হামিদুর রহমান আযাদের পিএইচডি সেমিনার নিয়ে নানা লুকোচুরির ঘটনা ঘটেছে।

তার সেমিনার আয়োজন করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ায় ইতিমধ্যে তিন শিক্ষককে শোকজ করেছে চবি কর্তৃপক্ষ। গঠন করা হয়েছে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি। তবে শাস্তির ব্যবস্থা করলেও এখন পর্যন্ত আযাদের পিএইচডি কার্যক্রম এবং পিএইচডি সেমিনার বাতিল করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে জামায়েতের এই শীর্ষ নেতার পিএইচডি কার্যক্রম বাতিলসহ চবি ক্যাম্পাস আর যেন মৌলবাদী অপশক্তির ঘাঁটি না হতে পারে, সে জন্য এ ঘটনায় জড়িতদে শনাক্ত করে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

জানা গেছে, পিএইচডি রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হামিদুর রহমান আযাদকে বিশেষ ব্যবস্থায় সেমিনারের সুযোগ দেওয়া হয়। এ বিষয়টি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের পক্ষ থেকে গোপন রাখা হয়। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিনকেও অবহিত করেনি বিভাগটি। পিএইচডি সেমিনার করার বিষয়টি বিভাগের নোটিশ বোর্ডে আগেই ঘোষণার নিয়ম থাকলেও সেমিনার শেষে নোটিশ ঝুলায় বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

এক্ষেত্রে হামিদুর রহমান আযাদের নাম গোপন করা হয় কৌশলে। এ.এইচ.এম হামিদুর রহমান আযাদ নামে তিনি পরিচিত হলেও বিভাগের ঝুলানো নোটিশ বোর্ডে তার নাম দেখানো হয় ‘আবুল হাসানাত মুহাম্মদ হামিদুর রহমান’।

অথচ সেমিনারে উপস্থাপিত অভিসন্ধর্ভে (অ্যাবস্ট্রাক্ট) প্রচ্ছদে তার নাম লিখা আছে এ.এইচ.এম হামিদুর রহমান আযাদ।

আরো জানা যায়, ২০ জুন সকাল ৯টা থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শ্রেণিকক্ষে হামিদুর রহমান আযাদ তার পিএইচডি সেমিনার উপলক্ষে দীর্ঘ সময় বক্তব্য রাখেন। এ সময় তাঁর পিএইচডি বিষয়ের ওপর আলোচনা রাখেন, আরবী বিভাগের প্রফেসর ড. আ.ক.ম আব্দুল কাদের ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ও এ পিএইচডির সুপারভাইজার ড. এ.এফ.এম আমীনুল হক।

সেমিনার আহ্বান করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন কাদেরী। পরে ১৮ জুন স্বাক্ষর দেখিয়ে নোটিশ বোর্ডে চিঠি ঝুলায় বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

শুধু তাই নয়; পিএইচডি সেমিনার শেষে ২৩ জুন ছুটিতে চলে যান ওই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনেয়ারুল হল খতিবী।

অভিযোগ রয়েছে, আযাদের পিএইচডি বিষয়ের ওপর আলোচন করা ওই তিন শিক্ষক জামায়াতে ইসলামীর নীতিনির্ধারক পর্যায়ের শিক্ষক। এমনকি সেমিনার চলা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, শহীদ মিনার, প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে শিবিরের নেতাকর্মীরা ছদ্মবেশে অবস্থান নেয় বলেও জানা গেছে।

এছাড়া হামিদুর রহমান আযাদ জামায়াতের শূরা সদস্য ও কক্সবাজারের মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাবেক এমপি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে। আযাদের পিএইচডি গবেষণার নাম (‘বাংলায় ইসলামি রাজনীতির উৎপত্তি ও বিকাশ-১৯০৫-১৯৭০’)। এতে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রশংসা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে এসব ঘটনা জানাজানি হলে, ৯ জুলাই ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এনামুল হক, পিএইচডির সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. এ এফ এম আমীনুল হক ও সেমিনার আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ড. মুহাম্মদ মমতাজ উদ্দীন এ তিন শিক্ষককে শোকজ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়।

একই দিনে ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসানকে আহ্বায় এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনকে সদস্য সচিব করে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তাদেরও দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নিদের্শনা দেওয়া হয়।

তবে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি।

তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক মনিরুল হাসান বলেন, আমাদে বলা হয়েছে তার (আযাদের) পিএইচডি সেমিনার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের কোনো বাত্যয় ঘটেছে কিনা? তা খতিয়ে দেখার জন্য। আমরা ইতিমধ্যে মিটিং করেছি। কত দিনের মধ্যে জমা দিতে পারব, তা বলতে পারব না, তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদ বলেন, তার (হামিদুর রহমান আযাদ) পিএইচডি সেমিনার এবং পিএইচডি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আলোচনা হয়েছিল। তবে এ আদেশে উপাচার্যের স্বাক্ষর না হওয়ায় তা কার্যকর হয়নি। আর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শোকজ করা তিন শিক্ষককে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। তারা যথাসময়ের মধ্যেই তা করেছেন। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন না আসার এখন পযন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মুহাম্মদ এনামুল হক কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব যথাসময়ে দেওয়া হয়েছে জানালেও এখনই বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।

উৎসঃ দেশ রূপান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত