প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে প্রিয়া সাহাকে বহিষ্কার

ইউসুফ বাচ্চু : ট্রাম্পের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অসত্য অভিযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ঐক্য পরিষদ থেকে প্রিয়া সাহাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার রাতে সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় , পরিষদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে সকল সাংগঠনিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রিয়া সাহা সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এদিকে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রানা দাস গুপ্ত।

রানা দাস গুপ্ত জানান, সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য নিমচন্দ্র ভৌমিকের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অসুস্থতার জন্য তিনি উপস্থিত ছিলেন না। সভায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন কাজল দেবনাথ, মিলন দত্ত, জে এল ভৌমিক, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাসুদেব ধর, নির্মল রোজারিও, দীপেন চ্যাটার্জি, মঞ্জু ধর, মণিন্দ্র কুমার নাথ, অ্যাডভোকেট তাপস পাল ও অ্যাডভোকেট শ্যামল রায়।

শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে রানা দাশ গুপ্ত বলেন, এ-সংক্রান্ত কোনও ব্যাখ্যা তারা দেননি। তবে আগামী বুধবার (২৪ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সেখানে বিস্তারিত জানানো হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ করেন প্রিয়া সাহা। তার দাবি, দেশ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩৭ মিলিয়ন মানুষ ‘ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ করে আলোচিত প্রিয়া সাহা তার বক্তব্যের একটি ব্যাখ্যা দেন, যেখানে তিনি অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা বলেন।

প্রিয়া সাহার দাবি, ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের নিখোঁজ হওয়ার যে ‘তথ্য’ তিনি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েছেন,তা সরকারি পরিসংখ্যান থেকেই নেওয়া। অধ্যাপক আবুল বারকাত ওই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ২০১১ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা সে সময় গণমাধ্যমেও আসে।

দলিত সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা‘শারি’র পরিচালক প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক।

তিনি বলছেন, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার যাতে ‘একসঙ্গে কাজ করতে পারে’- সেজন্যই তিনি হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগিতা চেয়েছেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা তার উদ্দেশ্য ছিল না।

একজন সাংবাদিককে প্রিয়ার সাক্ষাৎকার দেওয়ার একটি ভিডিও রোববার তার এনজিও শারির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়; সেখানেই বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি নিজের ব্যাখ্যাগুলো তুলে ধরেন।

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউজে যান প্রিয়া।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ (ডিজঅ্যাপিয়ার্ড) হয়েছেন।

প্রিয়া সাহা সেখানে বলেন, “প্লিজ আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমার অনুরোধ, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না। তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু বিচার হয়নি।”

তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বিভিন্ন মহলে।

সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ‘ক্ষুণ্নের উদ্দেশ্যেই’ প্রিয়া সাহা ওই ধরনের ‘বানোয়াট ও কল্পিত অভিযোগ’ করেছেন। দেশে ফিরলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন একজন মন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শনিবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ওই বক্তব্য দিয়ে প্রিয়া সাহা ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ’ করেছেন।

তবে রোববার তিনি জানান, প্রিয়া সাহার ব্যাখ্যা শোনার আগে তড়িঘড়ি কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়েছেন তিনি।

শারির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওতে প্রিয়া সাহা বলেন, সরকারের আদমশুমারি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী দেশভাগের সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যার ২৯.৭ শতাংশ ছিল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিক। ওই হার এখন নেমে এসেছে ৯.৭ শতাংশে।

“এখন দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৮০ মিলিয়ন। সংখ্যালঘু জনসংখ্যা যদি একই হারে বৃদ্ধি পেত, তাহলে অবশ্যই যে জনসংখ্যা আছে, এবং যে জনসংখ্যার কথা আমি বলেছি ক্রমাগত হারিয়ে গেছে, সেই তথ্যটা মিলে যায়।”

প্রিয়া সাহা বলেন, সরকারের ওই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করেই অধ্যাপক আবুল বারকাত ২০১১ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল, প্রতিদিন ৬৩২ জন হিন্দু দেশ ছাড়ছেন।

“২০১১ সালে আমি স্যারের সাথে সরাসরি কাজ করেছিলাম, যে কারণে আমি বিষয়টা সম্পর্কে অবহিত।”

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত