প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধর্ষণের অভিযোগে খুবি ছাত্রের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) লাইব্রেরিতে অন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে ধর্ষণ করেছে খুবির চারুকলা অনুষদের এক ছাত্র।

৩ জুলাই ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার ফেসবুকে ধর্ষণকারী ছাত্রের জুতার মালা পরানো ছবি পোস্ট করা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

এ ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে খুবি কর্তৃপক্ষ। ওই ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে চারুকলা অনুষদের প্রিন্ট মেকিং ডিসিপ্লিনে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র পাপ্পু কুমার মণ্ডলের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পাপ্পুর বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৩ জুলাই খুবির চারুকলা অনুষদে চিত্রকলা প্রদর্শনী ছিল। পাপ্পু ওই দিন তার পরিচিত এক ছাত্রীকে প্রদর্শনী দেখানোর কথা বলে ক্যাম্পাসে ডেকে আনে। ওই ছাত্রী খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের ছাত্রী। ওই ছাত্রী চারুকলায় যাওয়ার পর পাপ্পু তাকে খাবারের সাথে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে চারুকলার লাইব্রেরিতে নিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটি লাইব্রেরির সিড়িতে কান্নাকাটি করার সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে দারোয়ান দেখতে পায়।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, পাপ্পু ওই মেয়েটিকে পড়াতো। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর গত ১৫ জুলাই পাপ্পু বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে ছাত্ররা তাকে মুখে কালি লাগিয়ে ও গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।

খুবির ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক শরীফ হাসান লিমন জানান, ৩ জুলাই রাতে ঘটনার পর ৪ জুলাই মেয়েটি লিখিত অভিযোগ করেন। ৫ ও ৬ জুলাই ছুটি থাকায় ৭ জুলাই মেয়েটির অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী কমিটির কাছে দেওয়া হয়। তিনি জানান, প্রাথমিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাপ্পুর একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

যৌন নিপীড়ন বিরোধী কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. হোসনে আরা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।

এ ব্যাপারে হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদনা : মিঠুন/ কাজী নুসরাত/ রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত