প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পদ্মা সেতু করতে ১ লাখ মানুষের মাথা লাগার গুজব থেকে গণপিটুনিতে মানুষ মারার ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা?

দেবদুলাল মুন্না : গত ১৫দিন আগে প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো হয় পদ্মা সেতু নির্মাণে এক লাখ মানুষের মাথা দরকার হবে। এর এ জন্য ৪২টি দল সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা শিশুদের হত্যা করবে। সেসময় সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, সেতু করতে মানুষের মাথা দরকার পড়ে না।

যারা গুজব ছড়িয়েছে তাদের অন্তত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। কিন্তু গুজবের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনিতে মানুষ মারা যাচ্ছে। এই গণপিটুনি দেওয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে দেখা যায় কিশোর।এরমানে একটা কিশোর গ্যাং কাজ করছে।কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে মানুষ।

কেন এমন হচ্ছে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চাচ্ছে। কুমিল্লায় আদালতে হামলার ঘটনা সেটিরই আলামত।এখন পদ্মা সেতু যাতে না হয় সেজন্য প্রথমে গুজব ছড়িয়ে পরে গণপিটুনি দিয়ে মানুষ মারার ঘটনাও ওই গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের অংশ।এ গোষ্ঠী দেশের উন্নয়ন চায় না।’

অধ্যাপক আমেনা মহসীন বলেন, ‘গণপিটুনিতে মানুষ মারা যাচ্ছে। এটি উদ্বেগের বিষয়।পুলিশ কি করছে? যদি এটি কোনো গোষ্ঠীর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হয়ে থাকে তবে গোয়েন্দা বিভাগেরই উচিত সেই ষড়যন্ত্রকারীদের সনাক্ত করা। আমরা আইনের শাসন চাই। আমরা গণপিটুনিতে মানুষের মৃত্যু চাই না।’

গত বুধবার নেত্রকোণায় একটি শিশুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় একজনকে গণপিটুনিতে হত্যার পর গুজব ডালপালা মেলেছে আরও।গণপিটুনিতে গত শনিবার তিনজন মারা গেছেন।গত রোববার নির্মম পিটুনিতে আরেকজন নারীর প্রাণ হারানোর খবর পাওয়া গেছে। ছেলেধরা সন্দেহে শনিবার ওই নারীকে পেটানো হলে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।রোববার সেখানে তার মৃত্যু হয়।একই দিনে ছেলেধরা সন্দেহে বিভিন্ন জায়গায় গণপিটুনিতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১ জন। তার মধ্যে নওগাঁয় ছয়জন, টাঙ্গাইলে একজন এবং কুমিল্লায় রয়েছেন চারজন।তেঁতুলঝোড়া এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত এক নারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর।

শনিবার দুপুরে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে জনতার পিটুনিতে গুরুতর আহত হন তিনি। সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, ছেলেধরা সন্দেহে ওই নারীকে পিটুনি দেয় তেঁতুলঝোড়া এলাকার লোকজন। তবে কোন বাড়ির কার ছেলেকে তিনি ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তা কেউ বলতে পারেননি। নওগাঁর মান্দা উপজেলায় গত শনিবার ছেলেধরা সন্দেহে ছয় ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মান্দা থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গ্রামবাসী ‘ছেলেধরা’ গুজব রটিয়ে ছয় ব্যক্তিকে মারধর করেছে। গত রোববার কুমিল্লায় ছেলেধরা সন্দেহে ৬০ বছরের দুই বৃদ্ধ ও ৫০ বছরের এক নারীকে পিটিয়ে আহত করার খবর পাওয়া গেছে।গত রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায়,টাঙ্গাইলে সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের কান্দিলা বাজারে গণপিটুনিতে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সম্পাদনা : সাজিয়া/সুতীর্থ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত