প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুদক চেয়ারম্যান কী সক্রেটিসের শিষ্যের মতো সরল যে ‘বাপকে পিটিয়ে পিতৃঋণের শোধ চান! ’

দেবদুলাল মুন্না: এথেন্সের একটি বাড়ির ভেতর থেকে এক বৃদ্ধ লোকের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশিরা এগিয়ে গিয়ে দেখলেন, ওই বৃদ্ধের ছেলে তার বাবাকে বেদম মারছেন। মারার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জানালেন তার গুরু বলেছেন, পিতৃঋণ শোধ করতে হয়।ছেলেটির বাবা তাকে শৈশবে অনেক মেরেছেন। তাই তার বাবা মারা যাওয়ার আগেই তিনি তার বাবাকে মেরে পিতৃঋণ শোধ করছেন। ছেলেটির গুরু কে? গুরু সক্রেটিস। দার্শনিক সক্রেটিস একদিন তার শিষ্যদের বলেছিলেন,কারোরই পিতৃঋণ শোধ না করে মারা যাওয়া ঠিকই না।সে কথা শুনে সেই শিষ্য ওই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন।

পরে সক্রেটিস এ ঘটনা জেনে শিষ্যকে বলেছিলেন, ‘এরকম সরলতা ভালো নয়।জীবনকে জটিলভাবে বোঝার মধ্য দিয়েই একটা মানুষের মধ্যে মহাজাগতিক সরলতার জন্ম হয়।কিন্তু তোমার সরলতা নির্বুদ্ধিতা।’

সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন ‘সরকারি কর্মকর্তারা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে তা অপরাধ হবে না।’ তাকে কি সক্রেটিসের ওই শিষ্যের সঙ্গে তুলনা করা যায়? তার একথার মধ্যেই ‘পরষ্পরবিরোধীতা’ রয়েছে।

যেমন, প্রথমত, সাধারণ অর্থে ‘সরল’ যে তার তো দুর্নীতি করার কূটকৌশল জানার কথা না।দ্বিতীয়ত, তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের ‘সরলতা’কে উপজীব্য করেছেন, এরমানে সরকারি কর্মকতা নন যারা তারা সবাই জটিল।সেই কারণে তারা দুর্নীতি করলে সেটি ‘সরলতা’ হবে না ? তৃতীয়ত, সরকারি কর্মকর্তারা দুর্নীতি করেন এবং সে দুর্নীতিকে দুদক চেয়ারম্যান এড়িয়ে যেতে চান ‘সরল’ বলে?

একটি রাষ্ট্রের দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের এই যদি মনোবাসনা হয় তবে তো নেত্রকোনা শহরে গত বৃহস্পতিবার নিউটাউনের অনন্ত পুকুর পাড়ে ব্যাগের ভেতরে বাচ্চাদের মাথা নিয়ে যে খুনী হাটছিল এবং স্থানীয় জনতা তাকে পুলিশের কাছে না দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে তারাও তো বলতে পারেন ‘সরল বিশ্বাসে খুনীকে মেরে ফেলেছি’। খুনীটিও মরে যাওয়ার আগে ভাবতে পারে, ‘আহা দুনিয়া বড়ো নোংরা, এই শিশুর নোংরা পৃথিবী দেখার দরকার নাই, সরলভাবে এইটা ভেবেই ওকে মেরে ফেলি!’ কি ভয়ঙ্কর।এতো সরলতা আমরা কোথায় রাখবো? গত এপ্রিলে ‘ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়’- সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) তাকসিম এ খানের এমন সরল মন্তব্যে ওয়াসারই পানি দিয়ে সুপেয় শরবত পান করাতে চেয়েছিলেন রাজধানীর জুরাইনের মিজানুর রহমান। ভাগ্যিস এমডিকে পাননি।পেলে সরলতা কাাকে বলে বুঝতেন। কারণ এ মাসেই ওয়াসার পানিতে মল ও ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।দেশের সরকারি কর্মকর্তারা একটু বেশিই সরল বিশ্বাসে চলেন কি? নাহলে সরকারি খরচে সিইসি হজে যান কীভাবে? ৫টি কোম্পানির ১০টি পাস্তুরিত দুধের নমুনার ১০টিতেই শরীরের জন্য ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক গেলে সংশ্লিষ্ট সচিব অধ্যাপক ফারুকের ওপর চড়াও হন কেন ? সরল বিশ্বাসে? তবে কি সব কিছুই চলছে ‘সরলতা’র মাধ্যমে। তাই কোনো ‘দুর্নীতি’ দুর্নীতি না ? যদি কেউ বা কারা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরল বিশ্বাসেই ‘চ’বর্গীয় গালি দিয়ে মিছিল বের করে, তখন যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে সেটি কি দুদক চেয়ারম্যান বুঝতে পারেন না ? নাকি সরল বিশ্বাসে এমন কথা বলে সরকারের ভাবমূর্তিই নষ্ট করতে চান?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত