প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আপনারা কি জানেন, এদেশের অনেক হিন্দু হাতে শাখা পরতে ভয় পায়?

অপরাজিতা নীল : আমাদের বাসা যেখানে সে জায়গার নাম আগে ছিলো ‘জাউল্লা পাড়া’… নাম শুনে বুঝতেই পারছেন, এখানে জেলেদের বসবাস ছিলো এবং এই জায়গাসহ আশপাশের সব জায়গাই পানিতে ডোবা ডোবা থাকতো কিংবা আদতেই ডোবা বা ঝিল ছিলো এবং এ অঞ্চলের মোটামুটি ৯০ শতাংশ লোক ছিলো হিন্দু। আমার দারোগা দাদা শ্বশুর তার ছেলেকে মোটে ৬ হাজার টাকা দিয়ে এখানে ৪ কাঠা জমি কিনে দিয়েছিলেন ১৯৬৭ সালে।  যে লোকের কাছ থেকে আমরা আমাদের ডানে, বামে, সামনে পিছের লোকেরা জমি কিনেছিলেন, তার নাম ছিলো অভিমান্যু। তো সেই অভিমান্যুর পরিবার এখনো যে জমিটুকুতে টিকে আছে, সেটি আমার বেডরুমের ১৪ ফিট দূরে কোণাকুণি একটা ছাপড়ায়। এই ছাপড়ার দৈর্ঘ্য ৪০ ফুটের মতো হলেও প্রস্থ হবে সর্বোচ্চ ১৪/১৫ ফুট। তার এক পাশে ৭ তলা এক বিশাল বিল্ডিং, অন্য পাশে মসজিদ। ৪ তলা মসজিদ। যার চতুর্দিকে তিনতলা পর্যন্ত গাঁদাগাঁদা এসি লাগানো, ৪ তলায় মেস করে ভাড়া দেয়া, নিচতলায় এক কর্নারে একখানে লন্ড্রি করে ভাড়া দেয়া, আরেক কর্নারে যেখানে রাস্তার জায়গা দখল করে মিনার বানানো হয়েছিলো, সেখানে এখন কায়দা করে মাংসের দোকান বা মিনি কসাইখানা বানিয়ে ভাড়া দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এই অবৈধ দোকানের জন্য এই রাস্তা দিয়ে একখানে অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকবে না।

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির কথা না হয় বাদই দিলাম। তো ২০০৫ সালে অয়নরা যখন তাদের ইস্কাটনের বাসা ছেড়ে এখানে নিজেদের বাড়িতে চলে এলো, অভিমান্যুর নাতির বউ সম্ভবত আমাদের ছাদে এসে রোজ পূজার জন্য ফুল নিয়ে যেতো। একদিন আমাকে ছাদে দেখে খুব লজ্জা  পেয়ে বললো, বৌদি, না বলে ফুল নিয়ে যাই, কিছু মনে করেন না তো? আমি ভেতরে ডেকে এনে চা খেতে খেতে গল্প করলাম কিছুক্ষণ। সেই গল্পে যেটা জানা গেলো সেটা হচ্ছে মসজিদের জন্য সবাই মিলে জায়গা দাবি করলে অভিমান্যু নিজের ভিটা থেকে এক কাঠার মতো জমি শুরুতে তাদের দেন, তখনো তার জমি ছিলো ৭/৮ কাঠার মতো। এরপর বছর বছর মসজিদ দৈর্ঘ্যে ঠিক থাকলেও প্রস্থে শুধু বেড়েছে। অবস্থা বেগতিক দেখে ওই লোক অন্য পাশ থেকে ৪ কাঠা জমি বিক্রি করে দেয়। তখন মসজিদ কমিটি খেপে গিয়ে নাকি তার ভিটা আরও দেড় কাঠার মতো দখল করে নেয়। এখন এই এক দাগের এতো জমির মালিকের ঠিকানা ১৫‘ঢ৪০’। কার কাছে নালিশ জানাতে পেরেছিলো অভিমান্যু? কে করেছে এর বিচার? অভিমান্যুর পরিবারের কেউ বিদেশে পাড়ি জমায়নি, তারা কেউ পালিয়ে ভারতেও চলে যায়নি… তাদেরকে নিজ ভিটা থেকে ধীরে ধীরে, পিষতে পিষতে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আজ এদেশের হিন্দুরা হয়েছে সংখ্যালঘু? ৪/৫ পুরুষ আগে আপনার পূর্বপূরুষের ধর্ম কি ছিলো শুনি? গত ৩/৪ মাসের ভেতর দুই ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় মৃত হিন্দুকে পোড়াতে বাধা দেয় এদেশের মানুষ।

কী লজ্জা, কী লজ্জা! এদের মাঝে একদল আবার দাবি করেছিলো রোজার মাঝে হিন্দু পোড়ালে নাকি রোজার পবিত্রতা নষ্ট হবে! আর ভিটেবাড়ি উচ্ছেদ ও মূর্তি ভাঙা? সে তো আমাদের এখন এমন গা সওয়া হয়ে গেছে যে, শুনলে আহারে বলার পর আর মনে থাকে না। তো এই গোত্রের কেউ একজন যেই পারপাজই হোক, এই নগ্ন সত্যটা যখন বাইরে তুলে ধরলো কারও কাছে, আপনাদের ইজ্জতে লেগে গেলো খুব? ঠিক কয়দিন আগেই না পূর্ণিমা রানী শিলের ধর্ষণকে পুঁজি করে ভোট চেয়েছেন এই আপনারাই? এখন হিন্দুদের একেবারে লীগের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন যে বড়? অথচ এই বিচার যদি দেশের সরকার, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে করতো, এই নহবতই তো আসতো না। এদেশের সংখ্যালঘুদের সহ্যের সীমা কি জানা আছে আপনাদের? আপনারা কি জানেন, এদেশের অনেক হিন্দু হাতে শাখা পরতে ভয় পায়? আমি নিজের চোখে দেখেছি, আমার গানের দিদি যিনি রবীন্দ্রভারতী থেকে স্কলারশিপ নিয়ে পড়ালেখা করে এসেছেন সেই মহিলার সিঁদুর এই গত ৭/৮ বছরে গাঢ় থেকে হালকা, হালকা থেকে সিঁথির ভেতরে একটু, সেখান থেকে প্রায় নাই হয়ে গেল ভয়ে। কেন? এই পরিস্থিতি কেন হবে এই দেশে? নির্বাচনী ম্যান্ডেটের মতো স্বাধীনতার ঘোষণায় ঘোষণা দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের দাবি তোলা হয়েছিলো না বিশ্বের কাছে? তবে আজ এই দেশের হিন্দুসহ অন্য ধর্মের মানুষের সংখ্যা কমছে কেন অবিরত? প্রিয়া সাহার বক্তব্যে ৩৭ মিলিয়ন ডিজএপিয়ার্ড বাদে ভুল তথ্য আদতে আর কী ছিলো বলে আপনারা বের করেছেন? তার নিজের কোনো ইস্যু থাকলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু এদেশে অনেক সংখ্যালঘু মানুষ আছেন তারা সংখ্যাগুরু সবলের অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করেন, বিচার পান না। বিচার চাওয়া নিয়ে আপনারা নাখোশ হয়েছেন, এই বিচার যদি দেশে হতো তবে কোনো প্রিয়া সাহাকে এই নালিশ ট্রাম্পের কাছে গিয়ে তো করতে হতো না। প্রতিপক্ষকে ভ্যালিড পয়েন্টে ভুল ধরার সুযোগ দিয়ে কান্নাকাটি করা খুব শোভন কিছু নয়… ঘটে বুদ্ধি থাকলে এই সত্য বুঝবেন, না বুঝলে নাই। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত