প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ত্রাণ-খাবার-পানির সংকটে হতাশা
উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি কমলেও বাড়ছে মধ্যাঞ্চলে

নিজস্ব প্রতিবেদক  : দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর কোথাও কোথাও বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে, মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে বেড়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে সরকারিভাবে ত্রাণ দেয়া হলেও সব মানুষের কাছে পৌঁছেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

যেসব এলাকায় পানি কমেছে, সেখানে বেড়েছে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি। বন্যায় বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মানুষ ও গবাদিপশুর খাদ্য ও পানির তীব্র সংকট চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও এগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত উপদ্রুত হয়েছে ২৪টি জেলার মধ্যে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কিছুটা উন্নতি হয়েছে বগুড়া, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও সিলেটে।

জামালপুর: জেলার ৬১ ইউনিয়ন ও আট পৌরসভার প্রায় সাড়ে ১২ লাখ পানিবন্দি। পানিতে ডুবে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার এখনো ১০৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে এক ১০৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জামালপুর-টাঙ্গাইল সড়কে পানি উঠায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ইসলামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘গত চারদিনে কোনো ত্রাণ বরাদ্দ পাইনি।’

কুড়িগ্রাম: জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, বন্যায় ৫৭টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ ও ২ লক্ষাধিক গবাদিপশু পানিবন্দি। বন্যাদুর্গতদের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। পাঁচটি ওয়াটার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্যালাইন বিতরণ করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তবে, চিলমারী উপজেলায় সাপে কাটার ভ্যাকসিন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

কুড়িগ্রামের চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলাকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণা এবং বন্যা মোকাবেলায় সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর দাবি জানিয়েছে গণফোরাম। দ্রুত এই জেলার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়ারও দাবি জানায় দলটি।

চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজ রাজেশ্বর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন বলেন, ‘জোয়ার শেষে ভাটা শুরুর সময়টাতেই ভাঙন শুরু হয়। আমরা কোনো ত্রাণ চাই না। আমরা চাই, আমাদের ভিটে রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়া হোক।’

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী বেপারী বলেন, ‘আমরা ঘর-বাড়ি ভাঙনের শিকার এলাকায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি।’

গাইবান্ধা: জেলার ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি কিছুটা কমলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা ও গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা এবং ৪৯টি ইউনিয়নের ৩৮৩টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩২৮ জন। ৪৪ হাজার ৭৯২টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রোববার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১০১ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৫৩ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ৩ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম: আনোয়ারা উপজেলায় শঙ্খনদীর ভাঙনে বারখাইন ইউনিয়নের শাহারপাড়া ও জেলেপাড়ায় ১৮টি বসতঘর নদীতে তলিয়ে গেছে। প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া হলেও এই এলাকায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত নাজিম উদ্দিন জানান, গত বুধবার সকালে তার পাকা ঘরটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, উপকূল সুরক্ষায় সরকারের ২৮০ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্পের আওতায় ৫০০ মিটার এলাকায় উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে স্থায়ী বেড়িবাঁধসহ জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল: বন্যায় নাগরপুর উপজেলার ৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিমা আক্তার জানান, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৫৩টি। এর মধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে ৭৬টি। আর নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে একটি।

সিরাজগঞ্জ: বন্যার পানিতে ৩৮৮টি গ্রাম, এক হাজার ১২৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার ১৮৬টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বাঁধ,উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। কাজীপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া হাট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ২৯টি ব্রিজ ও কালভার্ট, ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ও ১৯১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানান, বন্যা মোকাবেলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরকারিভাবে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, নগদ টাকা ও চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী জানান, দিনে রাতে নৌ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি রয়েছে।

সম্পাদনা : তাইমুন ইসলাম/অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত