প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাহিনী চুরি সন্দেহে জাপানে স্টুডিওতে আগুন

মাজহারুল ইসলাম : জাপানের সংবাদমাধ্যম জানায়, উপন্যাস চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছে, এমন বিশ্বাস থেকে জন্ম নেয়া ক্ষোভের প্রতিশোধ নিতে জাপানের কিয়োটো অ্যানিমেশন স্টুডিওতে আগুন ধরিয়ে দেন শিনজি আওবা।
বৃহস্পতিবার সকালে লাগা ওই আগুনে ৩৩ জন মারা যায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরো ৩৬ জন। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত ২ দশকের মধ্যে জাপানের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা।
ঘটনার দিনই সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ শিনজি আওবাকে গ্রেফতার করে। আওবাও আগুনে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । হাসপাতালেই তাকে পুলিশ কাস্টডিতে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দ্রুত সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ৪১ বছর বয়সী আওবা পুলিশের কাছে দোষ স্বীকার করে জানায়, ওই স্টুডিও তার উপন্যাস চুরি করেছে। এজন্যই সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ আওবাকে চেতনানাশক দিয়ে রাখা হয়েছে। এ কারণে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না। হাসপাতালে আওবাকে কখনো অসন্তুষ্ট দেখাচ্ছে, কখনো রেগে যাচ্ছে,আবার কখনো চিৎকার করে প্রতারণার শিকার বিষয়টি বলছেন।
ঘটনাস্থলের কাছে একটি পেট্রোল পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আওবাকে সন্দেহ করে পুলিশ। কারণ আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে ওই পেট্রোল পাম্প থেকে ২টি কন্টেইনারে আওবাকে পেট্রোল নিতে দেখা যায়। পুলিশ জানায়, অ্যানিমেশন স্টুডিও ভেঙে প্রবেশের পর আওবা চারদিকে তরল ছিটিয়ে দেয়। এ সময় সে চিৎকার করে বলছিলো, তোমরা মরো।
জানা যায়, আওবার অতীত অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। ২০১২ সালে টোকিওর একটি সুপারশপে ডাকাতির অভিযোগে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। কারা মুক্তির পর তিনি সাবেক কয়েদীদের বসবাসের জন্য সরকারি ব্যবস্থায় তৈরি একটি হোমে থাকতেন। ওই সময় তাকে মনরোগের চিকিৎসাও নিতে হয়।
উল্লেখ্য, অ্যানিমেশন স্টুডিও ১৬০ জন কর্মী কর্মরত থাকলেও আগুন লাগার তিনতলা ওই ভবনটিতে ৭০ জন কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে দমকল বাহিনী। ১৯৮১ সালে ইয়োকো হাত্তা নামের এক নারী নিজেকে স্বাবলম্বী করতে তার স্বামী হিডেকী হাত্তাকে সঙ্গে নিয়ে কিয়োটো অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠা করেন। পুরো জাপান জুড়ে ভিডিও অ্যানিমেশন, সিনেমা ও টিভি সিরিজের জন্য এ প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রয়েছে ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত