প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে প্রিয়া সাহার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের

*ফ্রিডম হাউস বলছে হিন্দু- বৌদ্ধ খ্রিস্টান পরিষদের পরিচয় ব্যবহার করেছেন প্রিয়া
*প্রিয়া সাহার বক্তব্য সাংগঠনিক নয়, ব্যক্তিগত বললেন রানা দাশগুপ্ত
*দেশে ফিরলে বক্তব্যের জন্য জবাবদিহিতা করা হবে, জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
*অতিথি বাছাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরো সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করে পররাষ্ট্র দপ্তর
*পেশাগত জীবনে প্রিয়া সাহা এনজিও পরিচালনা করেন দলিতদের নিয়ে

তাপসী রাবেয়া: বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য জানিয়ে ১৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তার এ অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছে বাংলাদেশ। শনিবার (২০ জুলাই) সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই বাংলাদেশ সরকারের একটি ভিডিও বিষয় মনোযোগ আকর্ষণ হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি নাগরিক প্রিয়া সাহা, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি এবং সেখানে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান এরইমধ্যে গায়েব হয়ে গেছে । এখনও এক কোটি ৮০ লাখ আছে। যার মধ্যে ১৭ লাখ শিশু এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করে। আমাদেরকে সাহায্য করুন। আমি আমার ঘর হারিয়েছি, জমি হারিয়েছি। ইতোমধ্যেই আমার বাড়ি-ঘর দখল করেছে। জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা সরকার থেকে এর কোনো বিচার পাই নাই। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। আমরা বাংলাদেশ ছাড়তে চাই না। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। উল্লেখ্য, প্রিয়া সাহা ওয়াাশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রেও স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় স্বাধীনতা অগ্রগতির সেকেন্ড মিনিসটেরিয়াল সভায় ১৬-১৮জুলাই অংগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার আশা করে এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকরা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাবেন যারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মূল্য রাখতে অবদান রাখবেন। এদিকে শনিবার ট্রাম্পের কাছে দেয়া প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অভিযোগ প্রমান করলেই ব্যবস্থা নেয়া হতো। আর প্রিয়ার বক্তব্য বিষয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত শনিবার এবিষয়ে বলেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য কোনো সাংগঠনিক বক্তব্য না। তিনি বলেন প্রিয়া সাহা যে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, সেটা আমরা মিডিয়ার কাছ থেকে জেনেছি। তিনি আমাদের যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ওই সমাবেশে যাওয়ার কথা জানাননি। তা ছাড়া ওই সম্মেলনে সংগঠনের তিন সদস্যেও যে প্রতিনিধিদল গেছে, তাতে তিনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। এখন “ডিজঅ্যাপিয়ার” শব্দটি বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আয়োজিত ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের অন্তত ২৭ জন প্রতিনিধিকে গত বুধবার তাঁর ওভাল অফিসে ডেকে পাঠান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রিয়া সাহা।এদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন গনমাধ্যমে কে এই প্রিয়া সাহা তা নিয়ে নানা সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রিয়া বিশ্বাস সাহা পাসপোর্ট নামে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন। এবং সেখানে তার পরিচয় লেখা আছে তিনি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান পরিষদের সম্পাদক। প্রিয়া সাহার স্বামীর নাম মলয় সাহা, যিনি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে কর্মরত রয়েছেন। আর তার দুই কন্যা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ছাত্রজীবনে প্রিয়া সাহা ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রিয়া সাহা দলিত কন্ঠ নামে মাসিক ক্রোড়পত্রের প্রকাশক ও সম্পাদক।

সম্পাদনা: ইকবাল খান, রাশিদ রিয়াজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত