প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের পর মন্ত্রিসভায় আসছে বড় রদবদল

খালিদ আহমেদ : একজন মন্ত্রী ও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসেই এ রদবদল ও সম্প্রসারণ হতে পারে। মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে হতে পারে ৫৫ সদস্যের; কারও কারও পদোন্নতিও হবে তখন। দেশ রূপান্তর

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সাধারণত ছয় মাস পর মন্ত্রীদের বিভিন্ন বিষয় বিচার-বিবেচনায় নেয়া হয়, রদবদল এবং সম্প্রসারণও করা হয়। তবে এর সম্পূর্ণ এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য  বলেন, অক্টোবরে দলের জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলন শেষে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে সান্তনা পুরস্কার হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, সম্মেলনে দলের সভাপতিমন্ডলী ও সম্পাদকমন্ডলীতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। দলীয় পদ থেকে বাদ পড়তে পারেন বর্তমান কমিটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। অনেককে পদোন্নতি দেয়া হতে পারে; আবার কারও কারও পদাবনতি ঘটতে পারে। এসব নানা হিসাব-নিকাশ করে তখন নেতাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে সান্তনা পুরস্কার দেবেন শেখ হাসিনা। এজন্য গত শনিবার মন্ত্রিসভায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। মাত্র একজনকে পদোন্নতি ও নতুন একজনকে যুক্ত করা হয়েছে। সভাপতিমন্ডলীর ওই সদস্য আরও বলেন, আগামী অক্টোবরে সম্মেলন হয়ে যাওয়ার কথা। সে হিসেবে নভেম্বরের শেষদিকে অথবা ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন আসবে।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলী ও সম্পাদকম-লীর আরও দুই সদস্যের সঙ্গে। তারা বলেন, বর্তমান যুগে শুধু কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে দলের জন্য কাজ করা কঠিন। কারণ নেতাকর্মীরা এখন কেন্দ্রীয় নেতাদের চেয়ে মন্ত্রীদের পেছনে থাকতে চায়। তাতে কিছু আয়-রোজগার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাদের একজন বলেন, ‘বিভিন্ন জেলায় সফরে দেখেছি দলের বড় বড় পদ-পদবি বহন করা নেতাদের পেছনে কোনো কর্মী থাকতে চায় না। পতাকাবাহী গাড়ি থেকে মন্ত্রী নামলে তাকে বাড়তি কদর করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘এটা বললাম এজন্য যে, সাংগঠনিক কাজ করতে গেলেও একটি পতাকা লাগে। নয়তো মাঠের কর্মীরা কথা শোনে না। কারণ রাজনীতির ধরন পাল্টেছে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রীকে নিয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা সাজান তিনি। পাঁচ মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় প্রথম পরিবর্তন করা হয়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে সরিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বদলি করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বরত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। শনিবার ছোট পরিসরে মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণে ইমরান আহমেদ পদোন্নতি পেয়ে প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হন। আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর ফলে মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীর সংখ্যা বেড়ে হলো ২৫। তবে প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা আগের মতোই ১৯ ও উপমন্ত্রীর সংখ্যা তিনজনেই আছে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক প্রভাবশালী সদস্য বলেন, গত শনিবারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে একটি বার্তাও পৌঁছেছে যে, আগামী সম্মেলনের পর মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন আসবে। কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার জায়গা হবে ওই সময়ে।

জানতে চাইলে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, মন্ত্রিসভা থেকে কাকে কখন বাদ দেয়া হবে, মন্ত্রিসভায় কাকে কখন অন্তর্ভুক্ত করা হবে, কাকে কখন পদোন্নতি দেয়া হবে সেই এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত