প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার জুয়েলকে বাঁচানোর চেষ্টায় পুলিশ

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া রাশেদুজ্জামান জুয়েল মণ্ডলকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে পুলিশ। আদালতে চ‚ড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রমানিত হয়নি বলে প্রমান করার চেষ্টা করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা এ চ‚ড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুয়েলের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জুয়েলের বাড়ি গাজীপুরের গাছা থানার চান্দরা গ্রামে। তিনি প্রয়াত আবদুল হাইয়ের ছেলে। গত ২৭ মে র‌্যাব-১-এর একটি দল জুয়েলকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। তার বসতঘর তল্লাশি করে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই র‌্যাব-১-এর নায়েব সুবেদার কিরণ চন্দ্র সরকার জুয়েলের বিরুদ্ধে গাছা থানায় মামলা করেন। অস্ত্রসহ তাকে সোপর্দ করা হয় পুলিশের কাছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান থানার এসআই হাফিজুর রহমান। এক মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে গত ২৪ জুন গাজীপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চ‚ড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তে যা পাওয়া গেছে প্রতিবেদনে তাই লেখা হয়েছে।

এদিকে মামলার বাদী র‌্যাব-১-এর নায়েব সুবেদার কিরণ চন্দ্র সরকার বলেন, অস্ত্রসহ জুয়েলকে কীভাবে ধরেছিলেন তা তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছেও অস্ত্র উদ্ধার ও জুয়েলকে গ্রেফতার সম্পর্কে জবানবন্দি দেয়া হয়েছে।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এজাহারে উল্লেখিত ঘটনাস্থল এবং অস্ত্র উদ্ধারের স্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সানশেডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আসামি জুয়েল মণ্ডল পারিবারিকভাবে সম্পদশালী। তার প‚র্বপুরুষেরা অনেক জমির মালিক ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সৃষ্টি হয়েছে। জুয়েলের বাড়িতে প্রবেশের একটি পথ। তবে উঁচু দেয়ালবেষ্টিত বাড়ির উত্তরাংশে দেয়াল টপকে বাগানের ভেতর দিয়ে শত্রুপক্ষ ঢোকার সুযোগ আছে। জুয়েলের সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থান অনুযায়ী নিজ ঘরে অস্ত্র এবং মাদকের উপস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
অপরেিদক জুয়েল মণ্ডল অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়রা মিষ্টি বিতরণ করেছে। এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন বাড়ির মালিকরা হয়রানির হাত থেকে নিস্তার পেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গাছা, চান্দরা, কুনিয়া পাছরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষের আতঙ্ক ছিল জুয়েল মণ্ডল। বিশেষ করে যারা বাইরের জেলা থেকে ওই সব এলাকায় বাড়ির ঘর নির্মাণ করত তাদের ওপর অত্যাচারের মাত্রাটা ছিল বেশি। ঘরবাড়ি নির্মাণ, ময়লা, সিমেন্ট, ওয়ার্কসপের কাজ চড়া দামে তার কাছ থেকে না নিলে বাড়ি ঘর বেদখল হয়ে যেত। এমনকি বাড়িতে সাম্বারসিবল পাম্প বসাতে গেলেও তাকে চাঁদা দিতে হতো।

এছাড়া এলাকার অসহায় লোকদের ধরে এনে মারধোর করা, মাদক বিক্রি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্মেও তার হাত রয়েছে। নানা অপকর্মে জুয়েল মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৮-১০টি মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতো না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত