প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসামের ১০ মিয়া কবির বিরুদ্ধে এফএইআর দায়েরের সমালোচনায় সংবাদ সম্মেলন ভারতের শীর্ষ মানবাধিকার কর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের
কবিতার প্রতিবাদও আজ ভারতে নিরাপদ নয়

নূর মাজিদ : কবিতা লিখেও ক্ষোভ প্রকাশ করা আজকের ভারতে অসম্ভব। আসামের ১০ মিয়া কবির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সমালোচনা করে নয়া দিল্লিতে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করলেন মিয়া কবিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা সাবেক আমলা এবং কবি হর্ষ মান্দার এবং আরো কয়েকজন কবি, সাহিত্যিক এবং বুদ্ধিজীবি। সুত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ন্যাশনাল হেরাল্ড।

আলোচনায় যোগ দেন আরো অনেক কবি ও বুদ্ধিজীবী। এদের মাঝে ছিলেন লেখিকা গীতা হরিহরন, কবি অশোক বাজপেয়ি এবং শিক্ষাবিদ অপরূপানন্দের মতো ব্যক্তিত্ব সহ আরো অনেকেই।

আলোচনাকালে হর্ষ মান্দার বলেন, ভারতীয় প্রজাতন্ত্র মিয়া কবিদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ করে নিজেকে অজ্ঞানতা ও বৈষম্যের অন্ধকারে নিক্ষেপ করেছে। ওই কবিরা শুধু নিজ জনগোষ্ঠীর বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছিলেন। ভক্তি এবং সুফি কবিতাতেও প্রতিবাদ একটি প্রচলিত প্রথা। তাহলে আসামের মিয়া কবিরা কেন অপরাধী হবেন?

তিনি জানান, ১০জন কবির মাঝে নয় জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ১৫৩ ধারার আওতায় ভিন্ন স¤প্রদায়ের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি, উত্তেজনা উস্কে দেয়া, সহিংসতায় মদদ দেয়া এবং সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি নষ্ট করার মতো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যা রীতিমতো হতবাক করে দেয়ার মতো বিষয়। আমি নিজে ওই কবিতার ভিডিও অজস্রবার দেখেছি এবং প্রতিবারই মুগ্ধ হয়েছি। পুলিশ কিভাবে এই ভিত্তিহীন মামলা নিলো। তারা কি রাষ্ট্রের মতোই অন্ধ হয়ে গেছে! এখন কি কবিতার ওপরেও পুলিশি খবরদারি চলবে! ওই কবিতা নাকি আসাম তথা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বিনষ্ট করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কবিতার প্রতিবাদেও যদি এখন আইনের অপব্যবহার করা হয়, তাহলে জিজ্ঞেস করতে হয়, ভারত আজ কোন ধরনের বিভেদবাদি রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে?

উত্তরটাও নিজেই দেন তিনি। বলেন, আমার মতে আজ ভারত কবিদের অপরাধী বানিয়ে নিজেকে অন্ধকারের রাজত্বের কাছে সমর্পণ করেছে। প্রতিবাদি কবিতা যদি আমাদের ইতিহাসের অংশ না হতো, তাহলে আজো ভারত বিশ্বের এক কোণে পরাধীন রাষ্ট্র হয়ে পরে থাকতো।

গত জুনে ‘আই এম মিয়া- রিক্লেইমিং আইডেন্টি থ্রæ প্রোটেস্ট পোয়েট্রি’ শীর্ষক একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয় কারোয়ান-এ-মুহাব্বত নামক মানবিক কবিতাভিত্তিক অনলাইন সামাজিক মাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। কবিতাটি লিখেছিলেন হাফিজ আহমেদ। যেখানে আসামের বৈষম্যপূর্ণ নতুন নাগরিক তালিকার (এনআরসি) কারণে বাংলাভাষী স্থানীয় মুসলিমদের পরিচয়, নাগরিকত্ব হারানোর আকুতি প্রতিবাদের আকারে প্রকাশ করা হয়।

কবিতা প্রকাশের ভঙ্গি এবং ভাষাকে অসাধারণ বলেছেন ভারতের শীর্ষ অধিকার কর্মী, লেখক, বুদ্ধিজীবী হর্ষ মান্দার। এই কবিতা প্রকাশের পরেই তা আসাম জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। কারণ কদিন পরেই এনআরসির সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় সাংবাদিক প্রণবজিত দলোই কবিতাখানা প্রকাশের জন্য হাফিজ আহমেদ সহ আরো ১০ মিয়া কবির বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেন। এই নিয়েই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসামের মিয়া কবিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় অসা¤প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বুদ্ধিজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত