প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা হঠকারিতা, বিবৃতি রওশনপন্থী নেতাদের, স্বাভাবিক ও গঠনতান্ত্রিক, দাবি কাদেরের

ইউসুফ বাচ্চু : জিএম কাদেরকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণার একদিন পরে রওশনপন্থী নেতারা তা নাকচ করে দিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে দেয়া বিবৃতিতে তারা দাবি করেন, জিএম কাদের শুধুই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান নন।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিবৃতিতে বলেন, ‘জিএম কাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, তিনি চেয়ারম্যান নন। তিনি দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু হুট করে আলাপ-আলোচনা ছাড়া তাকে নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা হঠকারিতা। কারণ, তাকে জাপার চেয়ারম্যান করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুসারে দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় কাদের জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।’
তাকে নতুন চেয়ারম্যানের ঘোষণা থেকে বিরত থাকতেও দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এ বিবৃতির পর জিএম কাদের বলেছেন, ‘আমার ভাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চাওয়া এবং গঠনতন্ত্র অনুসারে আমাকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে একপক্ষ নারাজ থাকতেই পারেন। তবে কারা নারাজ, তা আমার জানা নেই।’

‘চেয়ারম্যান ঘোষণার বিষয়টি স্বাভাবিক, এখানে কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আগে যেভাবে অ্যাড্রেস করা হতো ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’র স্থলে গঠনতন্ত্র অনুসারে এখন ‘চেয়ারম্যান’ লিখবে- এমনটা দলের মহাসচিবও বলেছেন। এতে কার মনে ব্যথা হলো, কে অখুশি হলেন এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এটা সাংগঠনিক নিয়ম।’

তিনি বলেন, ‘ আমাকে চেয়ারম্যান ঘোষণায় গঠতন্ত্রের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় নেই, আমি দেখছি না।’

‘আপনাদের দলের অনেক সিনিয়র নেতারা বলেছেন, এই ঘোষণার আগে অন্তত একটি প্রেসিডিয়ামের সভা অথবা কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘোষণা করা উচিৎ ছিলো’- প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘তারা কি কারণে বলছেন, তারা আবেগে বলছেন না, অন্য কারণে বলছেন, আমার জানা নেই। আমরা মনে করেছি, এটার কোনো প্রয়োজন নেই। এটার জন্য কথা বলার সুযোগ ছিলো না। এটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ বিষয় কে কি বলছেন, তাও আমার জানা নেই।’

দলে কোনো প্রভাব পড়বে কি না- জানতে চাইলে জিএম কাদের বলেন, ‘আমি ভবিষ্যৎ জানি না, তবে কেউ কেউ নাখোশ হতে পারেন। তবে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক পক্ষে, সেখানে কিছু লোকের মতামত কতোটা মূল্যবান তা আপনারাই বিচার করবেন।’

গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, ‘বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে, এমনকি আমেরিকাতেও, সেখানে রাষ্ট্রপতির কতোগুলো ভেটো ক্ষমতা থাকে। আমাদের দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুসারে প্রতিটি পার্টির, আমি আমাদের দলের গঠনতন্ত্র জানি, এ ধরনের একটি বিশেষ ক্ষমতা তাদের নেতাকে দেওয়া হয়। প্রত্যেকটি দলেই এটা আছে। কিছু নেতা, যাদের অল্পতেই হয়ে যান, যারা সৎ, তাদের জন্য এটা কোনো বিষয় নয়। না হলে দলের যেকোনো কর্মকাণ্ড, একটা কমিটি হলো, কোনো কাজ থেকে কাউকে সরিয়ে দেয়া হলো, তখন প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আদালতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে পারতেন। যদি এ ধরনের কোনো বিধান না থাকে, তাহলে প্রতিটি কর্মকাণ্ডই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কমিটিগুলো দেখা গেলো, স্টে অর্ডার হয়ে রয়েছে। সামান্য কোনো বিষয় নিয়ে আদালতে গেলে আমাদের তো সারাদিন সেখানেই থাকতে হবে।’

‘যেকোনো বড় বিষয়ে কেউ যেন বাধা সৃষ্টি না করতে পারেন, সেজন্য পার্টির প্রধানকে কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়। নিয়ম হলো— এই ক্ষমতা ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে হবে। যেন অতিরিক্ত ব্যবহার করা না হয় অথবা ব্যবহারের একটা জবাবদিহি থাকতে হবে, যেন চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকে। এটা আমারও চেষ্টা থাকবে। কিন্তু এটা ছাড়া দল পরিচালনা করা অনেক কঠিন। এটা অনেকে বুঝতে পারেন না।’
জিএম কাদের বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে এই নয় যে, এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে সিস্টেমটাই অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ধরনের কিছু ক্ষমতা না দিলে আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অনুসারে, আমি মনে করি, দলের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা সম্ভব হবে না। এটা বাদ দিলে দল ঠিক হয়ে যাবে, এটা তারাই বলতে পারবেন— যারা প্র্যাক্টিক্যালি দল পরিচালনা করেন না।’
সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত