প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন’, ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ
প্রিয়ার ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে জানে না সংগঠন, বললেন রানা দাশগুপ্ত

স্বপ্না চক্রবর্তী : ধর্মের নামে ‘নির্যাতিত’ হয়েছেন- এমন বিভিন্ন দেশের মানুষদের নিয়ে গঠিত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গত বুধবার নিজের ওভাল অফিসে দেখা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন দেশে ‘নিপীড়নের’ শিকার হওয়া লোকজনের পক্ষে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সেখানে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া রানী সাহা দেশের সংখ্যালঘুদের ‘বিতাড়িত’ হওয়ার অভিযোগ তুলে এর থেকে উত্তরণে ট্রাম্পের সহযোগীতা কামনা করেন।

প্রিয়ার অভিযোগ ছিলো, বাংলাদেশে ‘মুসলিম মৌলবাদীরা’ সংখ্যালঘুদের নানা ধরনের ‘নির্যাতন’ করে দেশত্যাগে বাধ্য করছেন। কিন্তু তিনি বাংলাদেশ ছাড়তে চান না।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে এমন অভিযোগ করার একটি ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত ওই প্রতিনিধি দলে প্রিয়াকে পাঠানোর কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমেরিকায় ‘ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন’ শীর্ষক সম্মেলনে আমাদের সংগঠন থেকে তিনজন প্রতিনিধিকে পাঠানো হয়েছিলো। তারা হলেন সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অশোক বড়ুয়া ও নির্মল রোজারিও এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জী। প্রিয়া সাহা আমাদের সংগঠনের আটজন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। তবে তিনি ওই প্রতিনিধি দলে সদস্য ছিলেন না।’

প্রিয়া কোন মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছেন তাও জানেন না রানা দাশগুপ্ত। তবে প্রিয়ার করা অভিযোগের সঙ্গে সহমত পোষণ করে তিনি বলেন, প্রিয়ার বাড়ি বরিশাল অঞ্চলে। ওখানে তাদের অনেক বড় বাড়ি রয়েছে। যা কিছুদিন আগে অজ্ঞাতনামা কেউ জ্বালিয়ে দিয়েছে। পরে আবার একই জায়গায় নির্মাণাধীন নতুন বাড়িটিও জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে আমরা আগে যেমন প্রতিবাদ করেছি, এরও প্রতিবাদ করেছি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। এর খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে হয়তো প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন।’

তবে ভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানের কাছে নিজের দেশ সম্পর্কে এ ধরনের গুরুত্র অভিযোগ করা ঠিক হয়েছে কি না- জানতে চাইলে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে রানা বলেন, ‘প্রিয়া সাহা যা বলেছেন, সেগুলো নতুন কোনো বক্তব্য নয়। ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা ছিলো ২৯.০৭ শতাংশ। যা ১৯৭০ সালে কমে হয় ১৯.২০ শতাংশ। এই সংখ্যাও কমে ২০১১ সালের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের আরেক জরিপে জানা যায় ০৯.০৭ শতাংশ হয়েছে। তবে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাকি ২ শতাংশ বেড়েছে দাঁড়িয়েছে ১১.০৭ শতাংশ। তা হলেও স্বাধীনতার পর থেকে দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিম্নাঙ্কেরও নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। যা খুবই আশঙ্কার বিষয়।’

‘ বিভিন্ন সময় হিন্দুদের ঘরবাড়ি জ্বালানো থেকে শুরু মন্দিরগুলোতে হামলা হচ্ছেই। এতে করে অনেক হিন্দু পাশের দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। যা একটি অসাম্প্রদায়িক দেশের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে আশার কথা যে, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। চলমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের ২১ দফা নির্দেশনায়ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা রয়েছে। যা আমাদের জন্য খুবই আনন্দদায়ক ‘

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ওই নারী নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে বলছেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ‘নিখোঁজ’ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশেই থাকতে চাই।’

‘এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছেন। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। সেখানে আমি আমার ঘর-বাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমি-জমাও দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এর কোনো বিচার হয়নি।’ ওই নারীর এমন বক্তব্যের পর ট্রাম্প বলেন, ‘কারা জমি দখল করেছে, কারা ঘর-বাড়ি দখল করেছে?’

তখন ওই নারী বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন। তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়।’

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত