প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হয়েছে-নদী ভাঙন, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল : প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবদর, জয়ন্তী, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, কীর্তনখোলা, আড়িয়াল খাঁ, পয়সারহাট, পালরদী, নয়াভাঙ্গনী, মাছকাটা, লতা, আইরখালী, পায়রা নদী তীরের বাসিন্দাদের নদীভাঙন নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় থাকতে হয়। কখন যেন বসতভিটাসহ অসংখ্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলে যায় নদীগর্ভে। চলতি বর্ষা মৌসুমেও সেই একই আতঙ্কে রাত জেগে কাটাতে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ভয়ঙ্কর ১৫টি নদীপাড়ের বাসিন্দাদের। এসব নদীপাড়ের মানুষের স্থায়ী দুঃখই হচ্ছে নদীভাঙন।

বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে গেছে সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদী। এরইমধ্যে নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীন হতে শুরু করেছে। নদীভাঙনে বিলীন হয়ে এরইমধ্যে বাবুগঞ্জের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে সৈয়দ মোশারফ-রশিদা একাডেমি, আবুল কালাম কলেজ সংযোগ সড়কসহ বেশ কিছু স্থাপনা, বসতবাড়ি, আবাদি জমি, দোকান ঘরসহ কয়েক একর ফসলি জমি ও ফলদ বৃক্ষ। এছাড়া ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (দোয়ারিকা) সেতু, মহিষাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ, জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ব ক্ষুদ্রকাঠী গ্রাম, চরসাধুকাঠী মাদ্রাসা, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি জাদুঘর, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজার, মীররগঞ্জ ফেরিঘাট ও বাজারসহ অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।

সবশেষ গত ১৭ জুলাই ভোরে শুরু হওয়া রাক্ষুসী সুগন্ধা নদীর ভাঙনে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভুতেরদিয়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল খালেক, মো. মিজানুর রহমান, সেলিম ফকির, সেকান্দার মুন্সী ও আলমগীর ফকিরের বসত ঘরসহ বেশ কিছু স্থাপনা, দোকান ঘর ও ফলদ বৃক্ষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের তীব্রতা এতোই বেশি বর্তমানে ওই গ্রামের বৃহত একটি অংশ নদী ভাঙণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ভাঙনের হুমকিতে পরেছে ওই এলাকার দক্ষিণ ভুতেরদিয়া তাবলিকুল ইফতেদায়ী মাদ্রাসা, একটি মসজিদ, আমীর হোসের ফকির ও সেকান্দার মুন্সীর বসতবাড়িটি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারী বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা এবং সুগন্ধা নদীতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। হঠাৎ করেই সুগন্ধ্যা নদীর দক্ষিণ ভুতেরদিয়া পয়েন্টের ভাঙন তীব্র হয়েছে। এতে মুহূর্তের মধ্যে ১৭ জুলাই ভোরে পাঁচটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের মতে, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের সাথে অমাবস্যায় সৃষ্ট জোয়ার এবং উত্তরবঙ্গ থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে নদীতে ভাটার সময় স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। এ থেকেই দেখা দেয় যতো বিপত্তি। অপরদিকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে চলতি মৌসুমের প্রথমদিকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় কয়েকটি বসতঘরসহ আবাদি জমি গ্রাস করে নিয়েছে রাক্ষুসে সুগন্ধা নদী।

স্থানীয়দের দাবি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দ্রুত ভাঙন কবলিত এলাকা প্রতিরোধে কাজ শুরু করা না হলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বাবুগঞ্জ উপজেলার নদী তীরবর্তী অসংখ্য গ্রাম।

বরিশালের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম। পাশাপাশি তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাবার সামগ্রিক বিতরণ করেন এবং তাদের সবধরনের সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, নদী ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিম, বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত