প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোবাইল আর হেডফোন যখন মৃত্যুর কারণ

মুসবা তিন্নি : রেল পুলিশের হিসাবে ২০১০ থেকে ২০১৯ এর জুলাই পর্যন্ত কানে হেডফোন ও অসতর্ক ফোন ব্যবহার কারণে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেছে ৫৩৬ জনের। এই ‘রোগের’ কী সমাধান, সে বিষয়ে রেল কর্মকর্তা বা রেল পুলিশের কোনো ধারণাই নেই। যদিও এই মৃত্য তাদেরও ব্যথিত করে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, হাঁটার সময় এত তাড়াহুড়োর কিছু নেই। নিজের জীবন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফোনে নিবিষ্ট থাকলে মনোযোগ আশপাশে থাকে না। ফলে ট্রেন আসছে কি না, সেটাও দৃষ্টি বা শ্রবণের আড়ালে চলে যায়। আর ভারী ইঞ্চিনের ধাক্কা সহ্য করার মতো অবস্থা মানব শরীরের থাকে না। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই মারা যান তারা, যদিও বা কেউ বাঁচেন, অঙ্গ হারা হয়ে জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুশো বণিক বলেন, ‘এই ধরনের মৃত্যু অনেকটাই আত্মহত্যার মতো। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বা কানে হেডফোন দিয়ে চলাচল করার কারণে ট্রেন আসছে কি না সেদিকে তাদের খেয়াল থাকে না। এসব বিষয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতন হবে।

ঢাকা রেলওয়ে থানা কমলাপুর এর দেওয়া দেয়া তথ্য বলছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বছরে অন্তত ৩০০ মানুষ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। এর মধ্যে একটি বড় অংশের মৃত্যু ঘটে মোবাইল বা হেডফোনের অসতর্ক ব্যবহারে।

২০১০ ও ২০১১ সালে ২১ জন করে, ২০১২ সালে ৫২, ২০১৩ সালে ৬৭ জন, ২০১৪ সালে ১০৯ জন, ২০১৫ সালে ১০৩ জন মারা গেছে এ কারণে।  তবে পরের বছরগুলোতে ধীরে ধীরে মৃত্যু কিছুটা কমে এসেছে। ২০১৬ সালে ৩২ জন, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ৫৪ জন করে এবং ২০১৯ সালের গতকাল পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হেডফোন বা মোবাইল ফোনের অসতর্ক ব্যবহারের কারণে। একই সময়ে রেললাইনের ওপর বসা ও চলাচলের সময় ৭২৬ জন, রেলওয়ে ক্রসিং ও পারাপারের চেষ্টাকালে এক হাজার ২৬৮ জন ও ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রেল আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী রেললাইনের দুই পাশে ২০ ফুটের মধ্যে নির্দিষ্ট লোক ছাড়া কেউ এমনকি গবাদিপশুরও প্রবেশ নিষিদ্ধ। লাইনের দুই পাশের ২০ ফুট এলাকায় সব সময় ১৪৪ ধারা জারি থাকে। ওই সীমানার ভেতর কাউকে পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করা যায়। তবে বাস্তবতার কারণেই কাউকে এ জন্য আটকের উদাহরণ নেই। ঢাকা টাইমস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত