প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগের ৩ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন

মাহফুজুর রহমান, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের ৩উপজেলায় নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন বিদ্রোহী তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী। এর মধ্যে ১জন মোটরসাইকেল প্রতীকে এবং অন্যরা ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। দলীয় প্রধানের কঠোরতার কারণে এবার আর ছাড় পাচ্ছেন না বিদ্রোহী প্রার্থীগণ। শোকজসহ থাকছে দল থেকে বহিষ্কারের মত কঠিন সিদ্ধান্ত।

জানা গেছে, সংসদ নির্বাচন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের সময় দলীয় প্রতীক নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নৌকাকে পরাজিত করতে দলের প্রভাবশালী নেতারা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। কেন্দ্র থেকে বার বার সতর্ক করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। অনেককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন অনেকে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শোকজসহ দল থেকে বহিষ্কার করার মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

১২ জুলাই গণভবনে হওয়া আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় দায়িত্ব প্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদেরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। ঝিনাইদহের ৩টি উপজেলায় তিনজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে। ঝিনাইদহের ৩টি উপজেলায় তিনজন ছিলেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। এরমধ্যে দুইজন জয়ীও হয়েছেন। সুত্র জানায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয মনোনয়ন দেওয়া হয় দলের সদর উপজেলা সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুর রশীদকে। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জেএম রশিদুল আলম (দোয়াত কলম)। নৌকা প্রতীকে এ্যাডভোকেট আব্দুর রশীদ ৯০ হাজার ২শ ১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জেএম রশিদুল আলম দোয়াত কলম প্রতীকে ভোট পান ৫৫ হাজার ২শ ৬৭। হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মশিউর রহমান জোয়ার্দ্দারকে। এ উপজেলায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৪৯ হাজার ৭শ ৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী আলহাজ্ব মশিউর রহমান জোয়ার্দ্দার পান ৪১ হাজার ৫শ ৭৩ ভোট। শৈলকুপা উপজেলায় নৌকা প্রতীক দেওয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নায়েব আলী জোয়ার্দ্দারকে। এ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন ওরফে সোনা সিকদার আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আনারস প্রতীকের সোনা সিকদার ৭৮ হাজার ৪শ ১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার নৌকা প্রতীকে ভোট পান ৭৮ হাজার ৫০ ভোট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন চিঠি পাইনি। হাতে পেলে চিঠির নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদনা : মিঠুন রাকসাম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত