প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইনজীবী ছাড়া অভিযুক্ত মিন্নিকে রিমান্ডে নেয়ার মানে কী?

দেবদুলাল মুন্না: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। গতকাল নিজের ফেসবুক পেইজে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও এই হত্যাকান্ড নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেটি এরকম,‘কুখ্যাত খুনী, ধর্ষক, দুর্নীতিবাজ, মাদকব্যবস্যায়ী সবার জন্য আইনজীবীরা লড়তে পারেন। তাহলে মিন্নির জন্য কেন কোন আইনজীবী নেই? এটা দেখে আমার তো সন্দেহ হচ্ছে নয়ন বন্ড-এর গড়ফাদাররা আছে তাকে ফাঁসিয়ে দেয়ার পেছনে। না হলে তার পক্ষে লড়তে ভয় বা অনীহা কেন সেখানকার সব আইনজীবীর। মিন্নির পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য নেই কোন মানবাধিকার সংগঠনও। ’সাংবাদিক সালাউদ্দীন শুভ্র এক লাইনে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, সেটি হলো,‘যার পক্ষে আইনজীবীই ছিল না তাকে রিমান্ড দেয়ার জন্য একটু অপেক্ষাও করা গেল না, কত বড় সন্ত্রাসী সে(মিন্নি) ভাবা যায়! গতকাল স্বামী রিফাত হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বলে জানিয়েছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

তিনি জানান,‘মিন্নি স্বীকার করেছে বলেই তারা এই বিষয়গুলো আদালতের কাছে তুলে ধরে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রিমান্ড আবেদন করেছেন।আদালত বিচারক ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’প্রথম প্রশ্ন, আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে রিমান্ড চাওয়া যায় কি না! দ্বিতীয় প্রশ্ন, অভিযুক্তকে রিমান্ডে নেওয়া একই সাথে গুরুতর গোয়েন্দা ব্যর্থতাও নয় কি?

তৃতীয়ত, হাত ও পায়ের নখ খুবলে নিয়ে, হাড় গুড়ো করে রিমান্ডে নিয়েই যদি তথ্য জানতে হয়, তাইলে তদন্ত মানে কী? প্রথমে দেখি পুলিশ রিমান্ড বলতে কি বোঝায়? আইনে আছে, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে পুলিশ অফিসার সেই ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার ওপর তার হেফাজতে রাখতে পারবেন না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে শারীরিকভাবে বিচারকের সামনে হাজির করতে হবে। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে পুলিশ তাকে নির্যাতন করেছে কিনা সেটাও আসামি বিচারককে বলতে পারবেন।তখন বিচারক তাকে পুলিশ হেফাজতের বদলে বিচারিক হেফাজতে সোপর্দ করবেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তিনি বিচারকের তত্ত্বাবধানে কারাগারে থাকবেন। এখানে দু’টি ঘটনা ঘটতে পারে: ১, আসামির আইনজীবী এই মর্মে দরখাস্ত করতে পারেন যে, তার মক্কেল নির্দোষ। সুতরাং তাকে জামিন দেয়া হোক।২, পুলিশ সেই জামিনের বিরোধিতা করতে পারে। যদি বিচারক মনে করেন যে, তাকে পুলিশ হেফাজতে দেয়া দরকার, তাহলে তিনি সেই মর্মে নির্দেশ দেবেন। কিন্তু একই সাথে এ নির্দেশও দেবেন যে, তার আর কোনো শারীরিক নির্যাতন করা যাবে না। এটাকেই বলা হয় রিমান্ড।এরমানে আসামির পক্ষে আইনজীবী থাকতে হয়। কিন্তু মিন্নি সেই সুযোগ পাননি।রিমান্ড প্রশ্নে আইন বা উচ্চ আদালতের আদেশে কোনো আলাদা বিধান নেই। ভিআইপি ও চিহ্নিত অপরাধীর মধ্যে কোনো ফারাক সৃষ্টি করা হয়নি। বস্তুত প্রচলিত আইনের কোথাও রিমান্ড শব্দটিই নেই।

সংবিধান বলেছে, কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা আদায় করা যাবে না। সরকার থেকে রিমান্ডের আবেদন করে এবং নিম্ন আদালত থেকে তা মঞ্জুর করার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে সংবিধানের ওই চেতনার ব্যত্যয় ঘটে। ইংরেজিতে‘রিমান্ড’ শব্দটির অর্থ আসামিকে পুলিশি হেফাজতে পুনঃপ্রেরণ।কিন্তু আইনি ভাষায় ‘পুলিশ হেফাজতে আটক’ রাখা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ‘রিমান্ড’ শব্দটি ফৌজদারি মামলার জন্য আসামির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর দুটি ধারায় ‘রিমান্ড’ শব্দের কথা উল্লেখ থাকলেও কিন্তু কার্যবিধির কোথাও রিমান্ড শব্দটির সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। ধারা দুটি হল- ১৬৭ ও ৩৪৪।তাই ‘অভিযুক্ত’ মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবি না থাকা সত্ত্বেও তাকে রিমান্ড নেয়া হবে কলোনিয়াল হ্যাংওভারে ভোগা ‘ক্ষমতাচর্চা’রই নমুনা।আইনের মৃত্যু দেখলাম নয়ন বন্ডকে বিচার বহির্ভুত হত্যার মধ্য দিয়ে।এখন দেখছি মিন্নিকে ‘রিমান্ডে’ নেওয়ার আবেদনে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত